‘লাভ জিহাদ’ রুখতেই UCC? হিমন্ত সরকারের প্রথম সিদ্ধান্তে শুরু জোর বিতর্ক

আসামে দ্বিতীয়বার সরকার গঠনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বড়সড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই পাশ হলো অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি)। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে খসড়া বিলটিতে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়। মূলত রাজ্যে ‘লাভ জিহাদ’ ও বহুবিবাহের মতো প্রথা রুখতে এই পদক্ষেপকে তুরুপের তাস হিসেবে দেখছে বিজেপি সরকার।
সামাজিক সংস্কার ও নারীদের সুরক্ষা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই বিধির মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করা। নতুন এই আইনের ফলে রাজ্যে বহুবিবাহ প্রথা আইনত নিষিদ্ধ হবে এবং প্রতিটি বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে। লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি ও আইনি কাঠামোর কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও পৈতৃক সম্পত্তিতে নারীদের সমান উত্তরাধিকার সুনিশ্চিত করা এই বিধির অন্যতম প্রধান দিক। হিমন্তের মতে, এই পদক্ষেপ আসামের মুসলিম মহিলাদের সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।
আদিবাসী ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ ছাড়
উত্তরাখণ্ড বা গুজরাটের মডেল অনুসরণ করলেও আসামের প্রেক্ষাপটে এই বিধিতে কিছু নমনীয়তা রাখা হয়েছে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক আদিবাসী জনসংখ্যার রীতিনীতি ও সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে পাহাড় এবং সমতলের সমস্ত আদিবাসী গোষ্ঠীকে এই আইনের আওতাভুক্ত করা হয়নি। আসামের জনজাতির নিজস্ব ঐতিহ্য ও প্রথাগত আইন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে প্রশাসন।
নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যেই এই বিধি কার্যকর করা হবে। সেই লক্ষ্যপূরণেই মে মাসের শেষদিকে বিধানসভায় বিলটি পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে হিমন্ত বিশ্বশর্মা একদিকে যেমন কট্টর হিন্দুত্বের বার্তা স্পষ্ট করলেন, অন্যদিকে আদিবাসীদের ছাড় দিয়ে রাজ্যে নিজের জনভিত্তিও মজবুত রাখলেন। এই বিল পাশের পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২ লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা।