বিনা মেঘে বজ্রপাত, যুদ্ধের আবহে এবার আমুলের দুধের দামেও বড় কোপ

বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতা আর পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকটের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল মধ্যবিত্তের রান্নাঘরে। দেশের অন্যতম শীর্ষ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদক সংস্থা আমুল লিটার প্রতি দুধের দাম ২ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এই বর্ধিত দাম কার্যকর হতে চলেছে, যা সাধারণ মানুষের মাসিক বাজেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক বছরে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এর পাশাপাশি দুধের প্যাকেজিং খরচ এবং পরিবহণের ক্ষেত্রে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিও এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ। তবে আমুল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এই বর্ধিত মূল্যের একটি বড় অংশ সরাসরি কৃষকদের পকেটে যাবে। মে ২০২৫ থেকে দুধ সংগ্রহের জন্য কৃষকদের দেওয়া মূল্য ৩.৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি ৮০ পয়সা সরাসরি উৎপাদকরা পাবেন, যা ভবিষ্যতে দুধের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক নজরে নতুন দামের তালিকা
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আমুল গোল্ডের ৫০০ মিলি প্যাকেটের দাম ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৫ টাকা। আমুল তাজা (৫০০ মিলি) মিলবে ২৯ টাকায় এবং আমুল বাফেলো মিল্কের (৫০০ মিলি) দাম ৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৯ টাকা করা হয়েছে। আমুল গরুর দুধ এবং আমুল শক্তি দুধের (৫০০ মিলি) দাম ১ টাকা করে বেড়ে যথাক্রমে ৩০ ও ৩২ টাকা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় লাফ দেখা গেছে ১ লিটারের টি-স্পেশাল প্যাকেটে, যার দাম ৬৩ টাকা থেকে বেড়ে সরাসরি ৬৬ টাকা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির এই আবহে আমুলের এই পদক্ষেপ অন্যান্য দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোকেও দাম বাড়ানোর পথে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।