টলিপাড়ায় দাদাগিরি বন্ধে কঠোর সরকার, টলিউড বাঁচাতে বড় দায়িত্ব পেলেন রুদ্রনীল ও রূপা

টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অরাজকতা নির্মূল করতে এবার সরাসরি ময়দানে নামছে নবনির্বাচিত সরকার। গত কয়েক বছর ধরে শুটিংয়ের নিয়মকানুন নিয়ে ফেডারেশন ও ইম্পার বিরোধ কিংবা ছবি মুক্তি নিয়ে ক্রমাগত অশান্তি টলিপাড়ার পরিবেশকে কলুষিত করেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ইন্ডাস্ট্রির হারানো গৌরব ফেরাতে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, পাপিয়া অধিকারী ও হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ চার তারকা বিধায়ককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অরাজকতা রুখতে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, টলিউডে কোনোভাবেই ‘পাইয়ে দেওয়া’ বা ‘দাদাগিরি’ সহ্য করা হবে না। শিল্প-সংস্কৃতির জগতে ‘কাছের লোক’ দেখার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা সমূলে বিনাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, নতুন সরকার দলমত নির্বিশেষে এই অরাজকতার পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলতে দায়বদ্ধ। সচিব পর্যায়ের আধিকারিকদের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুটিংয়ে বাধা ও নয়া স্ট্র্যাটেজি
সম্প্রতি একটি দক্ষিণী ছবির শুটিংকে কেন্দ্র করে এবং বিভিন্ন গিল্ডের চাপিয়ে দেওয়া কঠিন নিয়মের কারণে টলিপাড়ায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী কিছু গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে শুটিংয়ে বাধা সৃষ্টি করছে এবং অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করছে। এই প্রসঙ্গে বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, বছরের পর বছর ধরে চলা এই নেতিবাচক অভ্যাসগুলো বাংলা বিনোদন জগতের সর্বনাশ করেছে। বিচ্ছিন্নভাবে ঘটে যাওয়া এই অঘটনগুলো রুখতে এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের দমনে সরকার এবার শক্ত হাতে হাল ধরছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, চার জন অভিজ্ঞ শিল্পীকে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে ইন্ডাস্ট্রির কারিগরি ও প্রশাসনিক সমস্যাগুলো আরও দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে টলিপাড়ায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং বহিরাগত প্রযোজনা সংস্থাগুলোও কলকাতায় নিশ্চিন্তে কাজ করার পরিবেশ পাবে।