প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে একগুচ্ছ আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করল এয়ার ইন্ডিয়া

দেশবাসীকে বিদেশযাত্রা কমিয়ে দেশের পর্যটনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল দেশের অন্যতম প্রধান বিমান পরিষেবা সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। চলতি গরমের ছুটির মরসুমেই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকার একাধিক রুটে বিমান পরিষেবা কমিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
একগুচ্ছ রুটে পরিষেবা বন্ধের প্রভাব
এয়ার ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগস্ট মাস পর্যন্ত শিকাগো ও নিউ ইয়র্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন শহরগুলোতে উড়ান পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপগামী ফ্লাইটের সংখ্যা। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ঢাকা, কাঠমাণ্ডু, কলম্বো এবং পর্যটকদের পছন্দের ব্যাঙ্কক ও সিঙ্গাপুরের ফ্লাইটেও বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত ২২টি আন্তর্জাতিক রুটে উড়ানের সংখ্যা কমানো হয়েছে এবং ৭টি রুটে পরিষেবা পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের আবহ
যদিও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের পরপরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, তবে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপের পেছনে মূলত অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণ দর্শিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এর ফলে বিমানের জ্বালানির (এটিএফ) চড়া দামকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। এছাড়া বেশ কিছু স্পর্শকাতর অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে গিয়ে জ্বালানি খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়াকেও এই কাটছাঁটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
দেশপ্রেম ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় সংকটকালীন পরিস্থিতিতে অন্তত এক বছরের জন্য বিদেশযাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। এর মাধ্যমে ভারতের পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করা এবং মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। এয়ার ইন্ডিয়ার এই বিমান বাতিলের সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যয়বহুল ও সীমিত হয়ে পড়ায় পর্যটকরা এখন দেশের অভ্যন্তরেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজতে বাধ্য হবেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সিদ্ধান্তের ফলে অভ্যন্তরীণ পর্যটন ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও বিদেশগামী যাত্রী ও অনাবাসী ভারতীয়দের দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।