উত্তরপ্রদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের তাণ্ডবে প্রাণহানি ছাড়াল ৫০, লণ্ডভণ্ড জনজীবন

উত্তরপ্রদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিধ্বংসী ধুলোর ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রাজ্যের একাধিক জেলা। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার দাপটে শত শত গাছ উপড়ে পড়া, ঘরবাড়ি ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রয়াগরাজ এবং বদায়ুঁ জেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
প্রয়াগরাজ ও বদায়ুঁতে মৃত্যুর মিছিল
প্রয়াগরাজে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে হান্ডিয়া ও ফুলপুর এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রবল ঝড়ে শতাব্দীপ্রাচীন গাছ থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, বদায়ুঁ জেলায় দুই নাবালিকা ও এক নারীসহ মোট ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। কোথাও মাটির দেওয়াল ধসে, আবার কোথাও টিউবওয়েল ঘরের ওপর গাছ ভেঙে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ শুরু করতে শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
বিপর্যস্ত পরিকাঠামো ও উদ্ধার তৎপরতা
রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা অচল হয়ে পড়ায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে বহু গ্রাম ও শহর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ চালাচ্ছেন। তবে বহু জায়গায় বড় বড় গাছ যানবাহনের ওপর পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অতিরিক্ত জেলাশাসক কুনওয়ার বিরেন্দ্র কুমার মৌর্য জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সবকটি দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দ্রুত যান চলাচল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।