লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছাপিয়ে এবার ৩ হাজার টাকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার! জেনে নিন আবেদনের সহজ পদ্ধতি

রাজ্যের নারী কল্যাণে এক বড়সড় পটপরিবর্তন ঘটতে চলেছে। বর্তমান সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা রাজ্য রাজনীতি ও জনমানসে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
কারা পাবেন এবং কীভাবে যাচাই হবে তালিকা
সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তারা সকলেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতাভুক্ত হবেন। বর্তমানে প্রায় ৯১ লক্ষ উপভোক্তার নাম পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে সুবিধাভোগীদের তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। জানানো হয়েছে, কোনো মৃত ব্যক্তি বা ভুয়া পরিচয়ধারী কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কোনো সন্দেহ থাকলে বা সরকারি তথ্যভাণ্ডার (SIR) থেকে নাম বাদ পড়লে, তাদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পর তবেই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া ও ডিজিটাল সুবিধা
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সবথেকে উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর সহজ আবেদন পদ্ধতি। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আর দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। শিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত—উভয় শ্রেণির কথা মাথায় রেখে একটি অত্যন্ত সহজবোধ্য অনলাইন পোর্টাল চালু করছে সরকার। বাড়িতে বসেই মহিলারা এই পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন জানাতে পারবেন।
যাঁদের নাম ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নথিভুক্ত আছে, তাঁদের নতুন করে আবেদন করার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) বা প্রত্যক্ষ সুবিধা হস্তান্তরের মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। মূলত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে ৩ হাজার টাকার এই মাসিক অনুদান রাজ্যের গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার অর্থনীতিতে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মহিলাদের হাতে সরাসরি নগদ অর্থের জোগান বাড়বে, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।