অবসরের পরও ক্ষমতা অটুট? ডা: গিরিকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি সংগঠনের

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের দীর্ঘকালীন প্রিন্সিপাল ডা. তপনকুমার গিরিকে শেষ পর্যন্ত সরিয়ে দিল স্বাস্থ্যভবন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বর্ধমান ডেন্টাল কলেজের ডা. শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ধরে ডা. গিরির বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল মেডিকোজ অর্গানাইজেশন (এনএমও) এই অপসারণকে তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের জয় হিসেবে দেখছে।
নিয়ম লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক অনিয়ম
ডা. তপনকুমার গিরির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো ন্যাশনাল ডেন্টাল কমিশনের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানো। এনএমও-র দাবি অনুযায়ী, ন্যাশনাল ডেন্টাল কমিশনের বিধি মোতাবেক ৬৫ বছর বয়সের পর কেউ প্রিন্সিপাল বা প্রফেসর পদে থাকতে পারেন না। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই বয়সের পরও দীর্ঘ সময় এক্সটেনশন পেয়ে পদে আসীন ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে যে, প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি কোনো বিজ্ঞাপন বা ইন্টারভিউ ছাড়াই মনোনীত প্রিন্সিপাল হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
মেয়ের চাকরিতে প্রশ্ন ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
তপনকুমার গিরির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি উঠেছে তাঁর মেয়ের কর্মজীবন নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, বেসরকারি কলেজ থেকে বিডিএস ও এমডিএস করা সত্ত্বেও তাঁর মেয়ে অত্যন্ত রহস্যজনকভাবে ২০১৬ সালে হেলথ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন এবং বাবার কর্মস্থল আর আহমেদ হাসপাতালেই চাকরি পান। পরবর্তীকালে বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নজিরবিহীন পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। জুনিয়র হওয়া সত্ত্বেও সিনিয়রদের টপকে তাঁকে বিভাগীয় প্রধান (এইচওডি) করা এবং নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ থেকে দ্রুত পুনরায় আর আহমেদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ বলে দাবি করেছে এনএমও। এমনকি এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও স্বচ্ছতার দাবি
এই অপসারণের ফলে আর আহমেদ ডেন্টাল কলেজের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এনএমও-র পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে নতুন সরকারের কাছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। ডা. গিরির এই বিদায় রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সখ্যতার বদলে মেধা ও নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে ডা. গিরির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।