পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে রথীন্দ্র বসু, উত্তরবঙ্গ থেকে এই প্রথম কেউ সামলাবেন সাংবিধানিক শীর্ষ পদ!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরবর্তী স্পিকার হিসেবে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্র বসুর নাম ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানান তিনি। বিধানসভায় বিজেপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় শুক্রবারের নির্বাচনে রথীন্দ্র বসুর জয় এবং ১৮তম স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং পোড়খাওয়া এই রাজনীতিকের হাত ধরেই রাজ্য বিধানসভায় এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে।
উত্তরবঙ্গের প্রথম স্পিকার ও রাজনৈতিক পরিচয়
৬৫ বছর বয়সি রথীন্দ্র বসু দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস) ও বিজেপির সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি ও উত্তরবঙ্গ বিভাগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থীকে ২৩ হাজার ২৮৪ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত হন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম উত্তরবঙ্গের কোনো নেতা স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের জন্য মনোনীত হলেন। সংসদীয় রাজনীতিতে নবাগত হলেও দলের অন্দরমহলে তিনি একজন দক্ষ ও স্পষ্টভাষী সংগঠক হিসেবেই পরিচিত।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও আগামীর প্রত্যাশা
২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যাওয়ায় ২০৭টি আসন নিয়ে বিজেপি এখন চালকের আসনে। এই বিপুল জয়ের পর বিধানসভার পরিচালনা পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই হবে নতুন স্পিকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। মনোনীত হওয়ার পর রথীন্দ্র বসু জানিয়েছেন, তিনি ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতি অনুসরণ করেই বিধানসভার কার্য পরিচালনা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে তাঁর পেশাদারিত্ব এবং উত্তরবঙ্গের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কৌশল থেকেই তাঁকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর এই নিয়োগ উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্ব যেমন বাড়িয়ে দিল, তেমনি বিধানসভার বিতর্কে নতুন মাত্রার প্রত্যাশা তৈরি করেছে।