তৃণমূলের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেই দেশের আরও ১৯ এলাকায় শুরু হচ্ছে এসআইআর

তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা মামলার জটিলতার মধ্যেই দেশের আরও ১৬টি রাজ্য এবং ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার নিবিড় বিশেষ সংশোধনী বা ‘এসআইআর’ (SIR) শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিশন এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তৃতীয় দফার এই কার্যক্রমের আওতায় অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, দিল্লি, ওড়িশা ও পাঞ্জাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে।
মামলার আবহ ও রাজনৈতিক বিতর্ক
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে এসআইআর-এর প্রভাব নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আগে থেকেই সরব। জোড়াফুল শিবিরের দাবি, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধনীর ফলে বহু যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা তাদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল শাসক দল। গত সপ্তাহে শীর্ষ আদালত তৃণমূলকে নতুন করে মামলা করার নির্দেশ দিলেও কমিশন তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় বিহার এবং দ্বিতীয় দফায় পশ্চিমবঙ্গসহ দশটি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
কমিশনের বিশাল প্রস্তুতি ও সময়সূচি
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখের বেশি বুথ-স্তরের আধিকারিক (বিএলও) ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ভোটারের দুয়ারে পৌঁছাবেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কাজে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় তিন লাখ বুথ-স্তরের এজেন্টরাও (বিএলএ) সহায়তা করবেন। আগামী ৩০ মে থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
প্রক্রিয়া ও প্রভাব
কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ জুলাই থেকে ২১ অক্টোবরের মধ্যে বিভিন্ন ধাপে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়া এবং নতুন ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রুটিমুক্ত তালিকা তৈরি করতে চাইছে কমিশন। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, এই নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক গাফিলতি থাকলে প্রকৃত ভোটাররা ভোটাধিকার হারাতে পারেন, যা আগামী নির্বাচনগুলোর ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ বাদে দেশের প্রায় সব অংশই এই কার্যক্রমের আওতায় চলে এল।