শুভেন্দু সরকারকে সময় দিতে চান কুণাল, বিধানসভায় সৌজন্যের আবহে নতুন সমীকরণ

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হলো এক বিরল সৌজন্যের আবহ। ছাব্বিশের নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিরোধী আসনে বসা তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম দিন থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে থাকতে নারাজ। বিশেষ করে বেলেঘাটার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গলায় শোনা গেল ভিন্ন সুর। নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দিয়ে কিছুটা ‘সময়’ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
বিরোধিতার আগে পর্যবেক্ষণ
শপথগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ জানান, ইভিএম বা গণনাকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে দলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও জনমতের ভিত্তিতে গঠিত নতুন সরকারকে এখনই কাঠগড়ায় তোলা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, সরকার মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, তাই তাদের নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনার জন্য সময় প্রয়োজন। কোনো গঠনমূলক কাজ শুরুর আগেই বিরোধিতায় নামলে সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। কুণালের এই অবস্থান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে একাধারে সৌজন্য এবং অন্যদিকে কৌশলী পর্যবেক্ষণ।
বিধানসভায় সৌজন্যের নজির
এদিন বিধানসভার লবিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কুণাল ঘোষের সাক্ষাৎ ও সংক্ষিপ্ত কথোপকথন নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। এছাড়া শাসক ও বিরোধী শিবিরের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই তথা এগরার তৃণমূল বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন। একইভাবে বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষকেও ফিরহাদ হাকিম ও কুণাল ঘোষের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে দেখা যায়।
প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
প্রথম দিন থেকেই কড়া বিরোধিতার পথে না হেঁটে কুণাল ঘোষের এই ‘অপেক্ষা করো এবং দেখো’ নীতি তৃণমূলের নতুন রণকৌশল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের ভালো-মন্দ বিচার করে তবেই আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে চায় ঘাসফুল শিবির। এই নমনীয় মনোভাব একদিকে যেমন বিধানসভার অন্দরে সুস্থ সংসদীয় পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করবে, তেমনি শাসকদল কোনো ভুল করলে তা জনসমক্ষে জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগও করে দেবে। আপাতত রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে আক্রমণ নয়, বরং গঠনমূলক নজরদারিই হতে চলেছে প্রধান বিরোধী দলের মূল লক্ষ্য।