বাংলার মানুষকে বাঁচান, এটা উত্তরপ্রদেশ নয়! বুলডোজার রুখতে হাই কোর্টে সওয়াল মমতার

কলকাতা হাই কোর্টের এজলাসে দীর্ঘ সময় পর ফের সওয়াল করতে দেখা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় রাজ্যের বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে জোরালো সওয়াল করেন তৃণমূল নেত্রী। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আদালতকে জানান, বাংলার মানুষকে বাঁচানো এখন জরুরি, কারণ এখানে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’ চলছে।
আদালতে মমতার অভিযোগ
আইনজীবীর পোশাকে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ৯২ বছরের বৃদ্ধ থেকে শুরু করে নবদম্পতিকেও ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তফশিলি জাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমাগত হুমকির পাশাপাশি ১২ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি সরব হন। নিজের অসহায়তা প্রকাশ করে তিনি জানান, তাঁকে বাড়ি থেকে বের হয়ে থানায় যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ফলে অনলাইনে অভিযোগ জানাতে তিনি বাধ্য হচ্ছেন। এদিন আদালতে তাঁর মূল সুর ছিল, বাংলাকে যেন উত্তরপ্রদেশের মতো পরিস্থিতিতে পরিণত হতে না দেওয়া হয়।
আইনজীবীদের বিক্ষোভ ও পুলিশের অবস্থান
সওয়াল চলাকালীন ও শুনানি শেষে আদালত চত্বরে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এজলাস থেকে বের হওয়ার সময় আইনজীবীদের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান ও অন্যান্য কটূক্তি করেন। পালটা পুলিশের পক্ষে দাবি করা হয়েছে, অশান্তির যে সংখ্যাগুলি বলা হচ্ছে তার সবকটি ভোট-পরবর্তী হিংসা নয়। পুলিশ সঠিক তদন্তের মাধ্যমেই পদক্ষেপ করছে।
সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে সরাসরি আদালতে সওয়াল করা এবং বিরোধী নেতা-কর্মীদের জন্য সুরক্ষা চাওয়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। অন্যদিকে, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের বিক্ষোভ ও পাল্টা সওয়াল-জবাবের ফলে ভোট-পরবর্তী এই মামলাগুলি আইনি ও রাজনৈতিকভাবে আরও জটিল রূপ নিতে পারে। এই শুনানির পর রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।