তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে শুভেন্দুর দরবারে শাসকদলের একঝাঁক বিধায়ক

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়ে শুভেন্দুর দরবারে শাসকদলের একঝাঁক বিধায়ক

রাজ্য রাজনীতিতে পটপরিবর্তনের পর বিধানসভার অলিন্দে এখন এক নতুন সমীকরণ দৃশ্যমান। বুধবার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের কাছে শপথ নিতে এসে মালদহ, মুর্শিদাবাদসহ উত্তরবঙ্গের একাধিক তৃণমূল বিধায়ক সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। প্রথাগত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এই সাক্ষাৎপর্বে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে বিধায়কদের করা মন্তব্য। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময় শাসকদলের একাধিক সংখ্যালঘু বিধায়ক সরাসরি জানিয়েছেন যে, তাঁরা দীর্ঘদিনের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়ে অবশেষে ‘স্বাধীনতা’ ফিরে পেয়েছেন।

সাক্ষাৎ ঘিরে জল্পনা ও রাজনৈতিক সমীকরণ

বিধানসভা চত্বরে শুভেন্দু অধিকারীর ঘরে গিয়ে সৌজন্য বিনিময় করেন হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখ, সুতির ইমানি বিশ্বাস এবং রঘুনাথগঞ্জের আখরুজ্জামান। তাঁদের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দাবি করেন, তৃণমূল বিধায়করা তাঁর কাছে মুক্ত বাতাবরণে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। শুভেন্দুর মতে, প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হবে সরকারি কাজে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক বনাম দলীয় রাজনীতি

এদিনের ঘটনাক্রম কেবল তৃণমূলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দমদম উত্তরের প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের উপস্থিতি বিধানসভায় বাড়তি চাঞ্চল্য ছড়ায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পুরানো সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতেই তিনি তাঁর ঘরে গিয়েছেন। যদিও ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে এই সাক্ষাৎ বলে তিনি দাবি করেছেন, তবে ভোটের ময়দানে তিনি বিরোধী অবস্থানেই ছিলেন বলে স্পষ্ট করে দেন। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের মিষ্টান্ন হাতে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ন কবীর।

তৃণমূল বিধায়কদের এই ‘বিদ্রোহী’ মেজাজ এবং বিরোধীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সহজ মেলামেশা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের অন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভই এখন ‘খোলা হাওয়ার’ খোঁজে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে, যার প্রভাব আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *