‘চোর’ স্লোগান ঘিরে তুমুল বিতর্ক! মমতাকে তুলোধোনা করে কী বললেন শমীক?

কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান এবং পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা এখন তুঙ্গে। একদিকে তৃণমূল যখন নেত্রীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, ঠিক তখনই পালটা আক্রমণ শানিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই ঘটনাকে তৃণমূলের ‘কৃতকর্মের ফল’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনরোষই আজ আদালতের বারান্দায় আছড়ে পড়েছে।
অতীতের স্মৃতি বনাম বর্তমানের আইনের শাসন
২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ টেনে শমীক ভট্টাচার্য বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের তৎকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, সেই সময় বিজেপি কর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন ও মহিলাদের লাঞ্ছনার ঘটনায় আইনের শাসন স্তব্ধ ছিল। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে সরব হচ্ছেন, তখন বিজেপি সভাপতি মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, অতীতে শাসকের আইন চললেও বর্তমানে বাংলায় প্রকৃত ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর মতে, বিজেপি সক্রিয় আছে বলেই আজ সাধারণ মানুষ ও বিরোধীরা নিজেদের সুরক্ষিত মনে করছেন।
জনরোষ না কি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
হাইকোর্ট চত্বরে আইনজীবীদের একাংশের এই বিক্ষোভকে বিজেপি নেতা সরাসরি সমর্থন না করলেও একে ‘স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা বিজেপির সংস্কৃতি নয়, তবে দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মানুষের এই প্রতিক্রিয়া অবাস্তব কিছু নয়। মঙ্গলবার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে অংশ নিতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন, তা রাজ্যের কলুষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্রতর করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।