চিনা ব্ল্যাকমেলিং রুখতে এবার রুশ ভরসা, বিরল খনিজ চুক্তির পথে নয়াদিল্লি-মস্কো

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা মহাকাশ গবেষণার পর এবার বিরল খনিজ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ ক্ষেত্রে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত হাত মেলাতে চলেছে ভারত। চিনের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যেই এই মেগা চুক্তির পথে হাঁটছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। খসড়া প্রস্তাব ইতিমধ্যে ক্রেমলিনে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা সম্পন্ন হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর।
চিনকে টেক্কা দিতে খনিজ কূটনীতি
বর্তমান বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিন গাড়ি (ইভি) এবং কৃত্রিম মেধা (এআই) প্রযুক্তির প্রধান চালিকাশক্তি হলো লিথিয়ামের মতো বিরল খনিজ। এই বাজারের সিংহভাগ বর্তমানে বেজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে। গত বছর ভারত তার প্রয়োজনীয় বিরল খনিজের প্রায় ৯৩ শতাংশই চিন থেকে আমদানি করেছে। মাঝেমধ্যেই রফতানি বন্ধ করে বা কঠিন শর্ত চাপিয়ে চিন ভারতকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করার চেষ্টা করায় বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে খনি অনুসন্ধান, উত্তোলিত আকরিক প্রক্রিয়াকরণ এবং উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ে আগ্রহী হয়েছে নয়াদিল্লি।
মস্কোর সঙ্গে নয়া সমীকরণ
প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে খনিজ ব্লকের খোঁজ চালাবে। বিশেষ করে লিথিয়াম আহরণে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘রোসাটম’-এর সহযোগিতা নিতে পারে ভারত। এছাড়া খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধনে বেসরকারি বিনিয়োগ টানার পরিকল্পনাও রয়েছে দুই বন্ধু রাষ্ট্রের। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়াও চিনের ওপর থেকে নিজের নির্ভরতা কমাতে ভারতের মতো নির্ভরযোগ্য বাজারকে পাশে চাইছে।
স্বনির্ভরতার পথে ভারতের মাল্টি-ট্র্যাক নীতি
শুধুমাত্র রাশিয়া নয়, বিরল খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত ইতিমধ্যে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। পাশাপাশি আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ‘প্যাক্স সিলিকা’ জোটেও শামিল হয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের মাটির গভীরে প্রায় ৮৫ লক্ষ টন বিরল ধাতুর ভাণ্ডার থাকলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় বছরে মাত্র ২,৯০০ টন উত্তোলন সম্ভব হয়। রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তি হাতে এলে এই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতে পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন করতে চায় ভারত।