শৈত্য কাটিয়ে বন্ধুত্বের বার্তা, বেইজিংয়ে ট্রাম্প-জিনপিং ঐতিহাসিক বৈঠক

দীর্ঘ ৯ বছরের শৈত্য কাটিয়ে বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রধান মেরু আমেরিকা ও চিন কি তবে সমঝোতার পথে হাঁটছে? বৃহস্পতিবার সকালে বেজিংয়ের তিয়েনানমেন স্কোয়ারে ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের মধ্যকার বৈঠক অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। লাল গালিচা সংবর্ধনা আর উষ্ণ করমর্দনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই শীর্ষ বৈঠককে ট্রাম্প ‘এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় সম্মেলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। জিনপিংকে নিজের ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই সম্পর্ক তাঁর কাছে সম্মানের।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় বরং সহযোগিতার বার্তা
বৈঠকের শুরুতেই চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেন, দুই দেশের উচিত একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে সঙ্গী হিসেবে কাজ করা। বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রধান শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর জোর দেন তিনি। জিনপিঙের মতে, একে অপরকে সফল ও সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করাই বর্তমান সময়ের সঠিক পথ। দুই নেতার শরীরী ভাষায় দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার এক স্পষ্ট চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মোড় ও প্রভাব
২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বেজিং সফরে গেলেন। গত বছরের শুল্ক যুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। বিমানবন্দরে চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি এবং তিয়েনানমেন স্কোয়ারে বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বেজিং প্রমাণ করেছে যে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বৈঠকের ফলে বিশ্ব বাজারে বাণিজ্যিক অস্থিরতা কমতে পারে। বাণিজ্য শুল্ক, বিরল খনিজ সম্পদ এবং ইরান পরিস্থিতির মতো জটিল বিষয়গুলোতে দুই দেশ কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আপাতত গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই তিন দিনের সফরের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে, যা নির্ধারণ করতে পারে আগামী দিনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।