গরম জলে পা ভিজিয়ে রাখলেই কি এড়ানো যাবে স্ট্রোকের ঝুঁকি?

বিশ্বজুড়ে অকালমৃত্যু এবং পক্ষাঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ স্ট্রোক। সাধারণত ২৫ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে অক্সিজেন সরবরাহের অভাবে মস্তিষ্কের কোষ অকেজো হয়ে পড়ে, যা স্ট্রোক নামে পরিচিত। সম্প্রতি অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ সমাজমাধ্যমে স্ট্রোক প্রতিরোধের একটি জাজল কৌশল শেয়ার করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
জাজল কৌশল ও শ্বেতা শাহের দাবি
শ্বেতা শাহের দাবি অনুযায়ী, প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট ঈষদুষ্ণ গরম জলে পা ডুবিয়ে রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তিনি জানান, জাজলরা এই সহজ পদ্ধতিটি নিয়মিত অনুসরণ করেন। তাঁর মতে, গরম জল রক্তনালি প্রসারিত করে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। এছাড়া জলে এপসম নুন মেশালে তা পেশি শিথিল করে, মানসিক চাপ কমায় এবং উন্নত ঘুমে সহায়তা করে। বিশেষ করে ৫০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তিদের জন্য এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত কার্যকর বলে তিনি মনে করেন।
চিকিৎসকদের ভিন্নমত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
পুষ্টিবিদের এই দাবি নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক পঙ্কজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, গরম জলে পা ভেজালে সাময়িক আরাম মিললেও এটি সরাসরি স্ট্রোক প্রতিরোধ করে এমন কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। স্ট্রোক মূলত উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার ফল। এই পদ্ধতি শরীরের উপরিভাগের রক্ত সঞ্চালন সামান্য বাড়ালেও মস্তিষ্কের গভীর ধমনীতে রক্ত প্রবাহে তেমন প্রভাব ফেলে না।
অন্যদিকে, চিকিৎসক অমিত সারাফ মনে করেন, এই থেরাপি একেবারে ফেলনা নয়। এটি পরোক্ষভাবে সহায়ক হতে পারে কারণ গরম জল শরীরের স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সাহায্য করে। তবে এটি কোনোভাবেই মূল চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না। চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাবার এবং শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। নুন-জলে পা ভেজানোকে কেবল একটি আরামদায়ক অনুষঙ্গ হিসেবেই দেখা উচিত।