বিতর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা, দিলজিৎ কি তবে ভারতের নাগরিক নন!

জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জকে ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। সম্প্রতি কানাডার একটি কনসার্টে খলিস্তানি পতাকা নিয়ে দর্শকদের প্রবেশ এবং তাতে শিল্পীর প্রতিক্রিয়ার ধরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলেও, এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর নাগরিকত্ব ও ব্যক্তিগত জীবন। একাধিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এই মুহূর্তে দিলজিৎ আর ভারতের নাগরিক নন; বরং কয়েক বছর আগেই তিনি বিদেশের পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন।
নাগরিকত্ব ও পাকিস্তানি যোগসূত্র
তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দিলজিৎ আমেরিকার নাগরিক হিসেবে সে দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে যাতায়াত করছেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাঁকে ভারতের পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল। তাঁর নাগরিকত্ব নিয়ে এই প্রশ্নের মাঝেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। গত বছর ‘সর্দারজি ৩’ ছবিতে পাকিস্তানি অভিনেত্রী হানিয়া আমিরের সঙ্গে কাজ করায় ভারতের একটি মহলে তাঁকে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। পহেলগাঁও কাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সেই ছবির ওপর ভারতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল, যা তাঁর ক্যারিয়ারে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়।
আড়ালে থাকা ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনীতি
দিলজিতের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও ধোঁয়াশা কাটছে না। দীর্ঘদিনের গুঞ্জন যে, তিনি বিবাহিত এবং তাঁর একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। জানা যায়, তাঁর স্ত্রী সন্দীপ কৌর আমেরিকার নাগরিক এবং তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাংলোতে বসবাস করেন। অথচ ২০২৪ সালে ম্যানচেস্টারের এক অনুষ্ঠানে তিনি দর্শকাসনে থাকা নিজের মা ও বোনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেও স্ত্রী বা সন্তানকে নিয়ে কখনোই জনসমক্ষে মুখ খোলেননি।
এদিকে তাঁর রাজনীতিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে শাসক শিবিরের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে নানা খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভাগবৎ মান এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, দিলজিৎ নিজেকে একজন শিল্পী হিসেবেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান। নাগরিকত্ব পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার এই প্রবণতা তাঁর অগণিত অনুরাগীর মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি পেশাদার জীবনে এর প্রভাব কী হবে তা নিয়েও বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।