জঞ্জালমুক্ত বাংলা গড়তে কড়া পদক্ষেপ, ছবি দিলেই ২ ঘণ্টায় মিলবে সমাধান

রাজ্যের শহর ও শহরতলিকে জঞ্জালমুক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর এক আমূল পরিবর্তনের ডাক দিল বর্তমান সরকার। এবার আর শুধু অভিযোগ জানানো নয়, বাড়ির সামনে বা রাস্তার মোড়ে আবর্জনা পড়ে থাকলে তার ছবি তুলে পাঠালেই দ্রুত শুরু হবে সাফাই অভিযান। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ‘স্বচ্ছতা অভিযান’ প্রকল্পের আওতায় এই আধুনিক ও কার্যকর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন।
প্রযুক্তির মেলবন্ধনে কড়া নজরদারি
পুরমন্ত্রী জানান, আবর্জনা অপসারণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং গতি বাড়াতে ‘জিও-ট্যাগিং’ প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। এর জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ চালু করছে পুর দপ্তর। নাগরিকরা যেখানেই স্তূপীকৃত ময়লা দেখবেন, সেই অ্যাপের মাধ্যমে ছবি তুলে আপলোড করতে পারবেন। জিপিএস বা জিও-ট্যাগিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার অবস্থান নিশ্চিত করবে দপ্তর এবং ছবি পাঠানোর মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে সাফাই কর্মীদের সেখানে পৌঁছে কাজ শেষ করতে হবে। কলকাতা থেকে আসানসোল—পুরো রাজ্যজুড়েই এই ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পালের মতে, গত দেড় দশকে রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতেই এই পদক্ষেপ। ১২৮টি পুরসভা এলাকায় সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্তের পর এই অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় বাড়তি জোর
পুর এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার বিষয়েও একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দপ্তর। শহরের যত্রতত্র বেআইনি পার্কিং রুখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র অনুমোদিত স্থানেই গাড়ি পার্ক করা যাবে এবং ভুয়ো বিলের মাধ্যমে টাকা তোলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একইসঙ্গে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় সরকারি দপ্তরগুলোতে ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন ও কল সেন্টার চালুর কথা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা ফেরাতে যে তৎপরতা শুরু করেছে, আবর্জনা সাফাইয়ের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সেই প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জঞ্জালমুক্ত শহর গড়ার এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ সরকারি পরিষেবাকে আরও জবাবদিহিমূলক করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।