বিধায়ক পদে শপথ নিয়েই দলের বিরুদ্ধে সরব কুণাল ঘোষ, বিস্ফোরক পোস্টে স্বজনপোষণের অভিযোগ

বেলেঘাটা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করলেন কুণাল ঘোষ। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শপথ গ্রহণের পর এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দলের একাংশের বিরুদ্ধে ‘স্বজনপোষণ’ এবং ‘হোয়্যাটসঅ্যাপ রাজনীতি’র তীব্র সমালোচনা করেন। উত্তর ও মধ্য কলকাতার রাজনীতির প্রেক্ষাপটে তাপস রায় এবং সজল ঘোষের দলবদল নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
পুরনো সতীর্থদের দলবদল ও আক্ষেপ
শপথ অনুষ্ঠানের পর কুণাল ঘোষ জানান, প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের হাত থেকে শপথ নেওয়া তাঁর কাছে এক অদ্ভুত ‘ভাগ্যচক্র’। তিনি উল্লেখ করেন, তাপস রায় এবং সজল ঘোষকে একসময় তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। কুণাল দাবি করেন, তিনি তাঁদের দলে রাখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন। এমনকি তাপস রায়ের প্রশংসা করায় একসময় তাঁকে দলের রোষানলে পড়তে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, দলের কিছু নেতার ভুল পদক্ষেপের কারণেই যোগ্য ব্যক্তিরা আজ বিরোধী শিবিরের বিধায়ক হিসেবে কাজ করছেন।
দলের অন্তর্কলহ ও আত্মসমীক্ষার ডাক
নিজের পোস্টে তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতার দিকে আঙুল তুলে কুণাল ঘোষ লিখেছেন, দলের ক্ষতির পরেও কিছু নেতার মধ্যে ‘স্বজনপোষণ’ এবং ‘কাঁদুনি পলিটিক্স’ অব্যাহত রয়েছে। তৃণমূলের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘আপত্তিকর’ ও ‘উদ্বেগের’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে নিচুতলার কর্মীরা ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন। দলকে শক্তিশালী করতে গেলে অবিলম্বে নেতৃত্বের কঠোর আত্মসমীক্ষা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রভাব
কুণালের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়লেও বিরোধী শিবির একে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় এই সমালোচনাকে গুরুত্ব না দিয়ে তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, সজল ঘোষের দাবি, কুণাল ঘোষ তাঁদের রাখার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির চাপে তা সম্ভব ছিল না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কুণাল ঘোষের এই প্রকাশ্য সমালোচনা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং শাসক দলের অন্দরে উত্তর কলকাতা ও তৎসংলগ্ন এলাকার সাংগঠনিক ফাটলকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এল। এর ফলে আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।