৪৪৪ দিনের বিশেষ এফডিতে বাজিমাত, কোন ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে মিলবে সবচেয়ে বেশি লাভ!

৪৪৪ দিনের বিশেষ এফডিতে বাজিমাত, কোন ব্যাঙ্কে টাকা রাখলে মিলবে সবচেয়ে বেশি লাভ!

শেয়ার বাজারের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার আবহে আজও সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি। বর্তমান সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে বিশেষ মেয়াদের এফডি স্কিম নিয়ে এক প্রবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ৪৪৪ দিনের বিশেষ স্কিমগুলো এখন মধ্যবিত্ত ও প্রবীণ নাগরিকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সুদের হারে এগিয়ে কোন ব্যাঙ্ক

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে বর্তমানে সুদের হারের নিরিখে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (পিএনবি)। এই ব্যাঙ্কে ৪৪৪ দিনের মেয়াদে সাধারণ গ্রাহকরা পাচ্ছেন ৬.৬০ শতাংশ সুদ। একই মেয়াদে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সুদের হার ৭.১০ শতাংশ এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সি বা সুপার সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তা ৭.৪০ শতাংশ। এখানে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে ম্যাচিউরিটি শেষে গ্রাহকের হাতে আসতে পারে প্রায় ১০,৮৩,৩৮২ টাকা। সমপরিমাণ সুদের হার দিচ্ছে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কও, যারা তাদের ‘ইন্ড সিকিওর প্রোডাক্ট’-এর মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের ৬.৬০ শতাংশ সুদ প্রদান করছে।

পিছিয়ে নেই এসবিআই ও অন্যান্যরা

দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (এসবিআই) তাদের ‘অমৃত বৃষ্টি’ স্কিমের মাধ্যমে ৪৪৪ দিনের মেয়াদে সাধারণ গ্রাহকদের ৬.৪৫ শতাংশ এবং প্রবীণ নাগরিকদের ৬.৯৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। এই স্কিমে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে সুদসহ পাওয়া যাবে প্রায় ১০,৮১,৪২৩ টাকা। সমপরিমাণ রিটার্ন দিচ্ছে ব্যাঙ্ক অফ বারোদার ‘বব স্কোয়ার ড্রাইভ ডিপোজিট স্কিম’ও। অন্যদিকে, কানারা ব্যাঙ্ক সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ৬.৫০ শতাংশ ও প্রবীণদের জন্য ৭ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করেছে, যেখানে ১০ লক্ষ টাকার বিনিয়োগে রিটার্ন মিলতে পারে প্রায় ১০,৮২,০৭৬ টাকা।

বিনিয়োগের সুরক্ষা ও প্রভাব

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিত রিটার্ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এই ৪৪৪ দিনের বিশেষ স্কিমগুলো অত্যন্ত কার্যকর। শেয়ার বাজারের ঝুঁকি এড়াতে যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই স্বল্পমেয়াদী উচ্চ সুদের হার একটি বড় সুযোগ। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেবল সুদের হার নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের পরিষেবা এবং করের (Tax) বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই প্রতিযোগিতামূলক সুদের হারের ফলে বাজারে আমানত সংগ্রহের হার বাড়বে, যা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার তারল্য বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *