হরমুজ প্রণালীতে ড্রোন হামলায় ডুবল ভারতীয় জাহাজ, অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচল ১৪ নাবিকের

ওমান উপকূলের কাছে গভীর সমুদ্রে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘হাজি আলি’। বুধবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘটা এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে জাহাজটি মাঝসমুদ্রে তলিয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন এতে থাকা ১৪ জন ভারতীয় কর্মী। সোমালিয়া থেকে শারজার দিকে গবাদি পশু নিয়ে যাওয়ার পথে ওমানের লিমা উপকূলের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিশানা যখন বাণিজ্যিক জাহাজ
গুজরাতের দেবভূমি দ্বারকা জেলার সালায়া বন্দরে নথিভুক্ত ‘হাজি আলি’ জাহাজটি যখন গভীর রাতে শান্ত সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছিল, ঠিক তখনই অতর্কিতে আছড়ে পড়ে অজানা কোনো বিস্ফোরক। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন অথবা মিসাইল হামলার জেরে জাহাজটিতে মুহূর্তের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। গোলার আঘাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জাহাজটি ডুবতে শুরু করলে ক্যাপ্টেন ও ১৩ জন খালাসি লাইফবোটে চড়ে কোনোমতে আত্মরক্ষা করেন। ওমান কোস্ট গার্ডের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে ডিব্বা বন্দরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জাহাজের মালিক সুলতান আহমেদ সাংহার নিশ্চিত করেছেন যে, সমস্ত নাবিক বর্তমানে সুরক্ষিত রয়েছেন।
নিরাপত্তা সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ
২০২৬ সালে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত সাত দিনের মধ্যে গুজরাতের এটি দ্বিতীয় জাহাজ যা একইভাবে হামলার শিকার হলো। এর আগে ‘আল ফয়েজ নূর সুলেমানি-১’ নামক অপর একটি জাহাজও রহস্যময় আক্রমণে তলিয়ে গিয়েছিল। ভারত সরকার ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’-র মাধ্যমে সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির জটিলতা কমছে না। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, অসামরিক জাহাজের ওপর নিরন্তর আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারত কড়া বার্তা দিয়েছে। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি এখন জাহাজ মালিক ও কর্মীদের জন্য চরম আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।