মার্কিন বিদেশসচিবের সম্ভাব্য কলকাতা সফর, ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান

প্রায় দেড় দশকের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে বাংলার মাটিতে পা রাখতে পারেন কোনো হাই-প্রোফাইল মার্কিন কূটনীতিক। চলতি মাসের শেষের দিকে ভারত সফরে আসছেন আমেরিকার নতুন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো। তাঁর এই সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু ভারতের রাজধানী দিল্লি হলেও, কূটনীতির অলিন্দে জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে তিনি কলকাতায় এক সংক্ষিপ্ত সফরে আসতে পারেন। কলকাতায় নিযুক্ত মার্কিন কনসালের সাম্প্রতিক মন্তব্যে এই সম্ভাবনার পালে নতুন হাওয়া লেগেছে।
কূটনৈতিক গুরুত্ব ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা
কলকাতার জন্য এই সফরটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিনটন কলকাতা সফরে এসেছিলেন। কাকতালীয়ভাবে, শ্রীরামচন্দ্রের ১৪ বছরের বনবাসের গল্পের মতোই ঠিক ১৪ বছর পর আবার কোনো মার্কিন বিদেশসচিবের বাংলা সফরের যোগসূত্র তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ এই সময়কালে ওয়াশিংটনের বহু উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ভারত সফর করলেও তিলোত্তমা কার্যত তাঁদের মানচিত্রের আড়ালেই ছিল। মার্কো রুবিয়োর এই সম্ভাব্য সফর সেই দীর্ঘ খরা কাটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আঞ্চলিক রাজনীতি ও বাণিজ্যিক প্রভাব
মার্কো রুবিয়োর এই সফরের পেছনে দক্ষিণ এশীয় ভূ-রাজনীতি এবং কৌশলগত কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লির পাশাপাশি কলকাতায় আসার সিদ্ধান্তের পেছনে পূর্ব ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। যদি এই সফরটি চূড়ান্ত হয়, তবে তা কেবল শিষ্টাচার রক্ষা নয়, বরং এই অঞ্চলে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা স্বার্থের বার্তাও বহন করবে। বাংলার শিল্পমহল এবং প্রশাসনিক মহলে এই সম্ভাব্য সফর ঘিরে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।