বাংলার শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধামাকা! সোমবার থেকে স্কুলের প্রার্থনায় বাধ্যতামূলক ‘বন্দেমাতরম’

রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে এক বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী সোমবার থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সংগীত হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেই তিনি নবান্ন থেকে এই মর্মে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করবেন।
শিক্ষায় জাতীয়তাবোধের প্রসার
মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার লক্ষ্য। দায়িত্বভার গ্রহণের পরপরই শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটাতে তিনি এই পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তাঁর মতে, স্কুলের শুরুর লগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে দেশের প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তোলা জরুরি। সোমবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা দপ্তরকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্ক
এই ঘোষণা সামনে আসার পরপরই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন একদিকে যেমন সমাদৃত হচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তবে মুখ্যমন্ত্রী নিজের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট করেছেন যে, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও জাতীয় সংহতি ফেরানোই তাঁর সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
সম্ভাব্য প্রভাব
এই নির্দেশিকা কার্যকর হলে রাজ্যের হাজার হাজার স্কুলে দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রার্থনা সংগীতের পাশাপাশি বা পরিবর্তে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার এই বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে কতটা সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। শিক্ষাবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশে এক নতুন মাত্রার জাতীয়তাবাদী আবহ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলবে।