‘আমেরিকার দাদাগিরি মানব না!’ দিল্লিতে মোদির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ ইরানের

‘আমেরিকার দাদাগিরি মানব না!’ দিল্লিতে মোদির পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ ইরানের

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে আমেরিকার প্রভাব বিস্তারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৃহস্পতিবার বৈঠকের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি এবং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠককে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন আধিপত্যের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি

ব্রিকস সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম না করে কড়া সমালোচনা করেন আব্বাস আরাঘচি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ওয়াশিংটনের ‘দাদাগিরি’ বা জবরদস্তিমূলক নীতি ইরান আর মেনে নেবে না। তাঁর মতে, ব্রিকসের অন্তর্ভুক্ত অনেক দেশই বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের মার্কিন চাপের মুখে পড়েছে। এই ধরনের নীতিকে ‘ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি সদস্য দেশগুলিকে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। পতনশীল সাম্রাজ্যের আচরণের সঙ্গে আমেরিকার বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের তুলনা টেনে তিনি একে ‘আহত পশুর মরিয়া আস্ফালন’ বলে মন্তব্য করেন।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির ঝুঁকি

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের আবহে আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, কোনো কোনো রাষ্ট্র সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চাইলেও আদতে তা সমগ্র বিশ্বের জন্য অস্থিরতা ডেকে আনছে। এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত আগ্রাসনকারী দেশসহ সকল পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সে বিষয়েও তিনি ব্রিকস মঞ্চে নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কূটনৈতিক গুরুত্ব ও প্রভাব

ভারতের মাটিতে এই বৈঠক পশ্চিম এশিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলির বাইরে ব্রিকসকে একটি শক্তিশালী বিকল্প মঞ্চ হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চলছে, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাকে আরও গতিশীল করল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও রাশিয়ার মতো দেশের সাথে ভারতের এই ঘনিষ্ঠ আলোচনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *