মমতা জেলে গেলেই মিলবে আসল স্বস্তি, আরজি করের ফাইল খুলতেই বিস্ফোরক নির্যাতিতার মা

মমতা জেলে গেলেই মিলবে আসল স্বস্তি, আরজি করের ফাইল খুলতেই বিস্ফোরক নির্যাতিতার মা

আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা ফাইল নতুন করে খুলতেই এবার সরাসরি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তুললেন নির্যাতিতার মা তথা জলহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরজি কর সংক্রান্ত ফাইল পুনরায় খোলার নির্দেশ দেওয়ার পর পরই তৎকালীন সিপি বিনীত গোয়েলসহ তিন হেভিওয়েট আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের পর নির্যাতিতার পরিবার স্পষ্ট জানিয়েছে, এই কারসাজির নেপথ্যে থাকা আসল ‘মাথা’ গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই থামবে না।

আইপিএস অফিসারদের সাসপেনশন ও নেপথ্যের কারণ

ঘটনার দিন প্রমাণ লোপাট এবং কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ, ঘটনার দিন টালা থানায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে সেমিনার রুমের সমস্ত তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা ও চিকিৎসকদের একাংশ এই প্রমাণ লোপাটের প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিনীত গোয়েল স্বয়ং সেমিনার রুমে দাঁড়িয়ে কারোর নির্দেশ নিচ্ছিলেন এবং শ্মশানে দেহ সৎকার শেষ হওয়া মাত্রই পুলিশ আধিকারিকদের বিশেষ প্রশংসা করা হয়েছিল, যা সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের দিকেই ইঙ্গিত করে।

তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও আগামী দিনের রাজনীতি

এই ফাইল পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত এবং হেভিওয়েট পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তি রাজনৈতিক মহলে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্যাতিতার মা সমস্ত নথি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগামী দিনে এই মামলার আইনি গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে থাকা সন্দেহভাজন চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের আড়াল করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রকাশ্যে এলে আরও বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের নাম জড়াতে পারে। এই তদন্তের গতি বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন নির্যাতিতার পরিবার সুবিচারের আশা দেখছে, অন্যদিকে তেমনই পূর্বতন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি চাপ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *