তিন মন্ত্রে দল ও প্রশাসন সামলানোর দাওয়াই, শৃঙ্খলা ভাঙলে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি শমীকের

তিন মন্ত্রে দল ও প্রশাসন সামলানোর দাওয়াই, শৃঙ্খলা ভাঙলে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি শমীকের

রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর প্রথমবার মুখোমুখি হয়ে দলের নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিল বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব। নির্বাচন-উত্তর প্রথম সাংগঠনিক বৈঠকে শৃঙ্খলা রক্ষা, সুসংগঠিত দল গঠন এবং প্রশাসনের ‘পবিত্রতা’ বজায় রাখা—এই তিন মূল মন্ত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দলের বৈঠকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষমতার দোহাই দিয়ে দলের শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

সুনীল বনসলের কড়া সতর্কবার্তা

বৈঠকে উপস্থিত বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের বার্তা ছিল আরও চড়া। রাজ্য নেতাদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে তিনি বলেন, “এত দিনের সব ভুল মাফ, কিন্তু এর পর থেকে আর নয়।” লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে যে সমস্ত ক্ষোভ বা সমন্বয়হীনতা ছিল, তা ভুলে এখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী দিনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন কেন্দ্রীয় এই নেতা।

সংগঠন মজবুত করতে বেঁধে দেওয়া হলো সময়সীমা

শুধু মৌখিক সতর্কবার্তা নয়, রাজ্যজুড়ে দলের সাংগঠনিক ফাঁকফোকড় ও খামতিগুলো দ্রুত মেরামত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (Dead-line) বেঁধে দিয়েছেন সুনীল বনসল। বুথ স্তর থেকে শুরু করে জেলা স্তর পর্যন্ত দলের খোলনলচে বদলে ফেলে কীভাবে একটি সুশৃঙ্খল পরিকাঠামো তৈরি করা যায়, তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হয়েছে এই বৈঠকে।

প্রশাসনের ‘পবিত্রতা’ রক্ষার নির্দেশ

দলীয় শৃঙ্খলার পাশাপাশি সরকারের ভাবমূর্তি নিয়েও সচেতন শীর্ষ নেতৃত্ব। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, নতুন সরকারের কোনো স্তরেই যাতে ‘ভিআইপি কালচার’ বা দুর্নীতির ছায়া না পড়ে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রশাসনের পবিত্রতা বজায় রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য। শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া অবস্থানের পর এটা স্পষ্ট যে, নতুন জমানায় ক্ষমতা উপভোগ নয়, বরং কঠোর অনুশাসনের মধ্য দিয়েই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় পদ্ম শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *