দুর্নীতি মামলায় ১৪ দিনের সিবিআই হেফাজত কলকাতা পুলিশের ধৃত ডিসিপি শান্তনুর

জমির বেআইনি কারবার থেকে শুরু করে পুলিশ মহলে বদলি সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত কলকাতা পুলিশের উপ-নগরপাল (DCP) শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল সিবিআই (CBI) বিশেষ আদালত। শুক্রবার আলিপুরের বিশেষ আদালতের বিচারক ধৃত এই আইপিএস কর্তাকে আগামী ২৮ মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইডির বিস্ফোরক তথ্যের পরই গ্রেফতারি
কলকাতা পুলিশের অত্যন্ত প্রভাবশালী এই অফিসারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছিল। ইডি সূত্রে আদালতের কাছে যে সমস্ত নথি পেশ করা হয়েছে, তাতে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, পদমর্যাদার অপব্যবহার করে কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বিতর্কিত জমির কারবারে অবৈধভাবে নাক গলাতেন তিনি। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে পুলিশ আধিকারিকদের পছন্দমতো জায়গায় বদলি করানোর একটি চক্রের সঙ্গেও তাঁর সরাসরি যোগসূত্র মিলেছে।
নথিপত্র ও আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
আদালতে শুনানির সময় তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানান, শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাড়ি এবং অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ সন্দেহজনক নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তাঁর আয়ের উৎসের সঙ্গে সম্পত্তির পরিমাণের আকাশপাতাল অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই দুর্নীতির শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং প্রশাসনের আর কোন কোন শীর্ষ কর্তা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতেই এই হেভিওয়েট পুলিশ কর্তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন বলে আদালতে সওয়াল করেন সিবিআই-এর আইনজীবীরা।
২৮ মে পর্যন্ত টানটান জেরা
আদালত দুই পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর জামিনের আর্জি খারিজ করে শান্তনুকে ১৪ দিনের সিবিআই রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মেয়াদের এই দিনগুলোতে কলকাতার নিজাম প্যালেসে রেখে তাঁকে জেরা করা হবে বলে সূত্রের খবর। রাজ্য পুলিশ মহলের একজন উচ্চপদস্থ কর্তার এভাবে সিবিআই হেফাজতে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন এবং এর ফলে লালবাজার তথা রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শান্তনুকে জেরা করে আগামী দিনে আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম সামনে আসতে পারে।