ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত ১০ কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছে দল, বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত ১০ কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিচ্ছে দল, বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেকের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক হিংসার আবহে এক বড়সড় ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাদের দলের অন্তত ১০ জন সক্রিয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে জোড়াতিল শিবির। এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারের যাবতীয় দায়িত্ব এবার থেকে দলই বহন করবে।

মাথানত করবে না বাংলা: অভিষেক

নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবং রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের ওপর লাগাতার অত্যাচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপিকে পুনরায় ‘বাংলা বিরোধী’ তকমায় দাগিয়ে দিয়ে তিনি এক এক্স (টুইটার) বার্তায় বলেন:

“এত অত্যাচার, এত হিংসা ছড়িয়েও লাভ হবে না। বাংলার মানুষ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা কোনো পরিস্থিতিতেই স্বৈরাচারী শক্তির সামনে মাথা নত করবে না।”

পরিবারের পাশে থাকার বড় বার্তা

দলের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, যে সমস্ত যুব ও প্রবীণ কর্মী দলের আদর্শকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের এই অবদান তৃণমূল কখনো ভুলবে না। নিহত ১০ কর্মীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহযোগিতা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ দলের তহবিল থেকে মেটানো হবে। এই বিপর্যয়ের দিনে নেতৃত্ব যে একদম বুথ স্তরের কর্মীদের পাশে রয়েছে, সেই ভরসা জোগাতেই অভিষেকের এই তড়িঘড়ি ঘোষণা।

রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে

ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই রাজ্যজুড়ে ব্যাকফুটে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার ওপর দলের অন্দরে যখন পরাজয়ের ময়নাতদন্ত ও অভ্যন্তরীণ ডামাডোল চলছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে মাঠের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে অভিষেকের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে তৃণমূল যখন বিজেপির বিরুদ্ধে ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’র ধারা বজায় রাখার অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্ব এই সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা বলে পাল্টা দাবি করেছে। নতুন সরকারের জমানায় এই রাজনৈতিক সংঘাত আগামী দিনে আরও তীব্র রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *