‘আমার ঘরের বাইরে অত্যাচার চলেছে, রেয়াত করেনি ছোট সন্তানদেরও’, শান্তিনিকেতন ‘সেলফি জোন’ হতেই সরব অভিষেক

‘আমার ঘরের বাইরে অত্যাচার চলেছে, রেয়াত করেনি ছোট সন্তানদেরও’, শান্তিনিকেতন ‘সেলফি জোন’ হতেই সরব অভিষেক

রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকেই কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাদের তৈরি করা নিরাপত্তার দুর্গ। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বদল এসেছে ভবানীপুরের হরিশ মুখার্জি রোডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ নামক বাসভবনে। যে বাড়িটি কিছুদিন আগেও কড়া পুলিশি পাহারায় দুর্ভেদ্য দুর্গের মতো ছিল, আজ তা এক সাধারণ বাড়ির রূপ নিয়েছে। আর নিরাপত্তা উঠতেই সেই বাড়ির সামনে সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের ভিড়, সেলফি তোলা এবং রিল বানানোর হিড়িক লেগেছে। এই পুরো পরিস্থিতি নিয়ে এবার এক ভিডিও বার্তায় তীব্র ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভিডিও বার্তায় বিজেপির সংস্কৃতিকে আক্রমণ

নিজের বাড়ির সামনের এই নজিরবিহীন পরিস্থিতি এবং সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি নিয়ে সরব হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন:

“আমার ঘরের বাইরে এরা কী অত্যাচার করেছে, আপনারা দেখেছেন। সব আমরা দেখেছি। বিজেপির আসল স্বরূপ আমরা দেখেছি। আমার লড়াই বিজেপির সাথে, আপনার লড়াই বিজেপির সাথে। কিন্তু পরিবারের ছোট সন্তান, ছেলে-মেয়ে, কাউকে এরা রেয়াত করেনি।”

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক আরও যোগ করেন যে, এই ধরণের ‘বদল’ বা প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বাংলার মানুষ আগে কোনোদিন দেখেনি। তবে তিনি এই পুরো বিষয়টি বাংলার জনার্দনের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন জানিয়ে বলেন, “এর বিচার এবং সদুত্তর মানুষ দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মনে রাখবেন আমরা সেই দলের কর্মী, যারা মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেও কোনোদিন পিছপা হতে শেখেনি।”

দুর্গ থেকে ‘সেলফি জোন’—কীভাবে বদলাল চিত্র?

গত ৪ মে পর্যন্ত হরিশ মুখার্জি রোডের এই বাড়িটিতে সাধারণ মানুষের প্রবেশ দূর অস্ত, সাধারণ যাতায়াতের ওপরেও কড়া নজরদারি থাকত। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই ছবিটা দ্রুত বদলে যায়। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, একজন সাধারণ সাংসদ (MP) হিসেবে যতটুকু প্রোটোকল মেনে নিরাপত্তা পাওয়া দরকার, অভিষেক ঠিক ততটুকুই পাবেন। এর পরই কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে নেওয়া হয় বড় পদক্ষেপ:

  • অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে তুলে নেওয়া হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী, লোহার গার্ডরেল এবং পুলিশের বিশেষ কিয়স্ক।
  • বাড়ির মূল গেটে বসানো অত্যাধুনিক ব্যাগ স্ক্যানার মেশিনটিও খুলে নিয়ে চলে যায় পুলিশ।
  • একইভাবে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের কর্পোরেট কার্যালয় থেকেও সমস্ত অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়।

বাড়ির গেটে বিজেপির পতাকা, ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন পথচারীরা

বাড়ির সামনের রাস্তা সাধারণের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হতেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিজেপি সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ ক্ষুব্ধ নাগরিকেরা। এমনকি অভিষেকের বাড়ির গেটে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এতদিন ধরে অভিষেকের সঙ্গে দেখা করতে না পারা বা ক্ষোভ উগরে দেওয়ার সুযোগ না পাওয়া মানুষজন এখন প্রকাশ্যেই ফুটপাথে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি যুবপ্রজন্মের একাংশের কাছে হরিশ মুখার্জি রোডের এই হাইপ্রোফাইল বাড়িটি এখন ‘সেলফি জোন’ বা রিলস তৈরির স্পট হয়ে উঠেছে। ভিডিও বার্তায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট হলেও, ময়দানের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এই ধরণের দৃশ্য বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *