বিমানবন্দরের ধাঁচে সাজছে দীঘা স্টেশন! অমৃতভারত প্রকল্পে ভোলবদল সৈকত শহরের

বিমানবন্দরের ধাঁচে সাজছে দীঘা স্টেশন! অমৃতভারত প্রকল্পে ভোলবদল সৈকত শহরের

বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দীঘার রেলস্টেশন এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অমৃতভারত স্টেশন’ প্রকল্পের আওতায় এই স্টেশনকে বিশ্বমানের ও বিমানবন্দরের মতো অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলার কাজ এখন পুরোদমে চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের যাতায়াত লেগে থাকা এই স্টেশনের খোলনলচে বদলে ফেলে পর্যটনবান্ধব পরিকাঠামো তৈরি করাই এই কর্মযজ্ঞের মূল লক্ষ্য।

আধুনিক পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা

পুনর্নির্মাণের পর দীঘা রেলস্টেশনে পা রাখলেই মিলবে বিমানবন্দরের মতো অনুভূতি। স্টেশন চত্বরে তৈরি হচ্ছে একটি বিশাল ও আধুনিক কনকোর্স, যেখানে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে অপেক্ষা করতে পারবেন। এ ছাড়াও সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতীক্ষালয়, আধুনিক লিফট এবং এসকালেটর (চলন্ত সিঁড়ি) বসানোর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পর্যটকদের বাড়তি ভিড় সামলাতে প্ল্যাটফর্মের দৈর্ঘ্য সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি গোটা স্টেশন চত্বর জুড়ে করা হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যায়ন। দূরদূরান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের খাবারের চাহিদা মেটাতে স্টেশনের ভেতরেই থাকবে আন্তর্জাতিক মানের ফুড কোর্ট এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তৈরি হচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের নান্দনিক স্টল।

ভিড় সামলানো ও পর্যটনে সম্ভাব্য প্রভাব

দীঘায় সদ্য গড়ে ওঠা জগন্নাথ মন্দির দর্শনের জন্য ইদানীং পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের আগমন এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গেছে। রেল দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, আগামী দিনে এই ভিড় আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত সেই বাড়তি চাপ সামাল দিতে এবং দীঘাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন হাব হিসেবে তুলে ধরতেই রেল মন্ত্রক এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার কারণে এই স্টেশনটি চালু হলে দীঘার পর্যটন শিল্পে এক নতুন জোয়ার আসবে, যা পরোক্ষভাবে স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *