‘আমেরিকাকে বিশ্বাস নেই!’ দিল্লিতে দাঁড়িয়ে ওয়াশিংটনকে তীব্র তোপ ইরানি বিদেশমন্ত্রীর

আমেরিকার ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্ক উস্কে দিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বর্তমানে ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত এই শীর্ষ ইরানি কূটনীতিক সাফ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস না করার মতো শত শত কারণ তেহরানের কাছে রয়েছে। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে যেকোনো ধরণের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এই পারস্পরিক আস্থার অভাবই এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আব্বাস আরাঘচি বলেন, “আমেরিকানদের ওপর আমাদের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।” তবে একই সঙ্গে কিছুটা বৈপরীত্য টেনে তিনি দাবি করেন, আমেরিকানরা নিঃসন্দেহে ইরানিদের বিশ্বাস করতে পারেন, কারণ ইরান সবসময়ই তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে যখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উত্তেজনা চলছে, তখন ভারতের মাটি থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এমন মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কূটনৈতিক অচলাবস্থার মূল কারণ
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরানের এই চরম অনাস্থার পেছনে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন প্রশাসনের একতরফাভাবে বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের ওপর একের পর এক কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এই সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে ঠেকেছে। ইরান মনে করছে, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পালাবদলের কারণে যেকোনো সময় আন্তর্জাতিক চুক্তি ভেঙে যেতে পারে, যা কূটনৈতিক আলোচনার পথকে স্থায়ীভাবে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
ব্রিকস সম্মেলনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চের পটভূমিতে করা এই মন্তব্যের প্রভাব বহুদূর গড়াতে পারে। প্রথমত, এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা বা পরমাণু চুক্তি পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়ল। দ্বিতীয়ত, ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলোর সামনে আমেরিকার এই ‘অবিশ্বাস্য’ ভাবমূর্তি তুলে ধরে ইরান মূলত পশ্চিমা-বিরোধী শক্তিগুলোকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে। এই বিবৃতির জেরে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইরানি শক্তির মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।