শুভেন্দুর ছবি আগে শমীকের পরে, বিজেপির দলীয় ব্যানারে বড় বদলের প্রস্তাব রাজ্য সভাপতির

শুভেন্দুর ছবি আগে শমীকের পরে, বিজেপির দলীয় ব্যানারে বড় বদলের প্রস্তাব রাজ্য সভাপতির

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর এবার দলীয় শৃঙ্খলা ও প্রোটোকল বজায় রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যানারে নেতাদের ছবির অবস্থান বা বিন্যাস বদলে ফেলার পক্ষে সওয়াল করেছেন তিনি। এতদিন ধরে চলে আসা নিয়মের পরিবর্তন ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি আগে রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। শুক্রবার দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্যের এই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে শৃঙ্খলার এক নতুন বার্তা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রশাসনিক প্রধানের সম্মান রক্ষাই মূল লক্ষ্য

বিজেপির সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো রাজ্যে দলীয় কর্মসূচির ব্যানারে একপাশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের ছবি থাকে। অন্য পাশে স্থান পান সংশ্লিষ্ট রাজ্যের দুই শীর্ষনেতা। বাংলায় এতদিন পর্যন্ত ব্যানারের সেই অংশে আগে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং পরে তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ছবি থাকত। কিন্তু বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করায় এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় এই বিন্যাসে আপত্তি তুলেছেন শমীকবাবু। তাঁর স্পষ্ট ব্যাখ্যা, মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। তাই ব্যানারে তাঁর ছবি আগে না রাখলে প্রশাসনকে খাটো করা হয়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এবার থেকে ব্যানারে প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তার পরে রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর নিজের ছবি রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

দলীয় শৃঙ্খলার কড়া বার্তা ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য। অতীতে শাসকদল ও প্রশাসন একাকার হয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, বিজেপি বঙ্গে তার পুনরাবৃত্তি চায় না। রাজ্য সভাপতি নিজে উদ্যোগী হয়ে নিজের ছবির আগে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি রাখার প্রস্তাব দিয়ে নিচু তলার কর্মী ও জেলা নেতৃত্বকে প্রোটোকল মেনে চলার কড়া বার্তা দিলেন। এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে দলের অন্দরে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং দলের চেয়ে সরকারের প্রশাসনিক মর্যাদা যে উর্ধ্বে, সেই ধারণাও স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে এটি দলের অভ্যন্তরীণ একতা ও শৃঙ্খলাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *