নিতিন গড়করিকে ১০০ কোটির হুমকির জের, জেলবন্দি জয়েশ পুজারির আরও ৫ বছরের সাজা!

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করিকে ফোনে হুমকি দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করার চাঞ্চল্যকর মামলায় বড় রায় দিল আদালত। নাগপুর জেলা ও দায়রা আদালত এই হাই-প্রোফাইল মামলার মূল অপরাধী জয়েশ পূজারীকে দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। ইতিপূর্বেও একটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিল এই অপরাধী।
আদালতের শুনানিতে বিভিন্ন ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় জয়েশ পূজারীকে এই কঠোর সাজা শোনানো হয়। সরকারি সূত্রের খবর, এই হুমকি মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রশাসনের হাতে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য আসে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় ত্রুটিকে সামনে এনেছিল।
কারাগারের ভেতর থেকেই তৈরি হয় নাশকতার ছক
তদন্তে জানা গেছে, এই গোটা অপরাধের সুতো জড়িয়ে ছিল জেলের ভেতরের অন্ধকার জগতের সাথে। কর্ণাটকের একটি কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা কাটার সময়ই জয়েশ পূজারী কড়া নিরাপত্তা বলয় ফাঁকি দিয়ে একটি মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে। সেই ফোনের মাধ্যমেই সে নাগপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়করির কার্যালয়ে ফোন করে প্রথমে ১০০ কোটি এবং পরবর্তীতে আরও ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে মন্ত্রীকে সশরীরে হত্যা করার পাশাপাশি তাঁর কার্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোরও হুমকি দেওয়া হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি এবং দূরগামী প্রভাব
এই ঘটনার পর দেশের উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন কারাগারগুলোর অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। একটি সুরক্ষিত জেলের ভেতর থেকে কীভাবে একজন দাগী আসামী মোবাইল ব্যবহার করে দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার সাহস পায়, তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। আদালতের এই রায়ের ফলে এটি স্পষ্ট যে, এই ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসন কোনো আপস করবে না। এই কঠোর শাস্তির প্রভাব হিসেবে আগামীদিনে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দীদের অবৈধ যোগাযোগ বন্ধে জ্যামার স্থাপনসহ নজরদারি আরও কঠোর করা হতে পারে।