“আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত কেন?” পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সরব তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ওঠানামাকে কেন্দ্র করে দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ফের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর চরম আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কমে, তখন তেল সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষকে তার সুবিধা না দিয়ে নিজেদের মুনাফা বাড়াতে ব্যস্ত থাকে। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন শেষ হতেই এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মনে করেন।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। বিশেষ করে মোটরসাইকেল বা স্কুটার চালকদের মাসিক যাতায়াত খরচ একলাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে। এর পাশাপাশি, যেসব ক্যাব চালক ঋণের কিস্তি শোধ করে গাড়ি চালাচ্ছেন, তাদের রুজি-রোজগারে এটি বড় ধাক্কা দেবে। কেবল আমজনতাই নয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রও গভীর সংকটে পড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহণ খরচ বা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার জেরে দেশীয় বাজার ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই মন্দার প্রভাব দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংকট বনাম দেশের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক
একদিকে যখন রাজ্যগুলো এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাচ্ছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই দাম বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি. কিষাণ রেড্ডি জানিয়েছেন যে, এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দায়ী। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহণের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’-তে আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। তবে এই আন্তর্জাতিক সংকটের দায় শেষ পর্যন্ত সাধারণ করদাতাদের ওপর এসে পড়ায় দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।