জ্বালানির দাম কি আকাশছোঁয়া হতে চলেছে, আশঙ্কাজনক ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে বিঘ্নিত তেল সরবরাহ। ভারতও এই পরিস্থিতির শিকার। বেশ কিছুদিন ধরে চলা জল্পনা সত্যি করে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি অবশেষে পেট্রোল, ডিজেল এবং সিএনজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লিটার প্রতি ৩ টাকা করে বেড়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। পাশাপাশি প্রতি কেজি সিএনজির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২ টাকা। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের পকেটে বড় ধাক্কা দিলেও, বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল সংস্থাগুলির বিপুল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে এই পদক্ষেপ একেবারেই পর্যাপ্ত নয়।
ভয়াবহ লোকসানের মুখে তেল সংস্থাগুলি
ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে ভারতে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। দেশে বর্তমানে প্রায় দুই মাসের তেলের রিজার্ভ বা মজুত থাকলেও, ভবিষ্যতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের যোগান নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলির উপর। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১৬০০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকেই এই ক্ষতির পরিমাণ ১.২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও দাম বাড়ার সম্ভাবনা ও প্রভাব
যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার, যা বর্তমান পরিস্থিতির কারণে একলাফে ১১০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। এই বিশাল ব্যবধান ঘোচাতে ও কস্ট-রেভেনিউ ভারসাম্য বজায় রাখতে পেট্রোল ও ডিজেলে লিটার প্রতি কমপক্ষে ২৮ থেকে ৩৩ টাকা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি ইরান-আমেরিকা সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তেল সংস্থাগুলির লোকসান কমাতে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে সরকার একবারে এতটা মূল্যবৃদ্ধি না করলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকল্প পথের সন্ধান দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো, ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়ি থেকে কাজ করার সংস্কৃতি চালু করা এবং বিদেশ ভ্রমণ বাতিলের মতো কিছু কঠোর পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল তেল সংস্থাগুলিকে দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা এবং একই সাথে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত রাখা।