ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর ছাড়লেন রথীন ঘোষ, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে বাড়ছে চাপ

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে অবশেষে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হলেন রাজ্যের হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। এর আগে একাধিকবার নানা কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়ালেও, শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। সেখানে দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বের হন রথীন ঘোষ। তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করেছেন বলে জানালেও, সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকার করেন তিনি।
পুর নিয়োগের জাল ও ইডির জেরা
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন পুরসভায়, বিশেষ করে দক্ষিণ দমদম এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভায় বিগত বছরগুলিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় আগেই গ্রেফতার হওয়া প্রোমোটার অয়ন শীল এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের জেরা করে ও তাঁদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া নথির ভিত্তিতেই রথীন ঘোষের নাম উঠে আসে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপ-পৌরপ্রধান এবং মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর মেয়াদে হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েই ইডি আধিকারিকরা তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ইতিপূর্বে এই একই মামলায় সিবিআই তাঁকে জেরা করেছিল এবং তাঁর বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশিও চালানো হয়েছিল।
তদন্তের গতি ও রাজনৈতিক প্রভাব
গত মঙ্গলবারই পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর গ্রেফতারির পর রথীন ঘোষের এই দীর্ঘ সাড়ে ৯ ঘণ্টার জেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এর আগে ভোটের ব্যস্ততা এবং বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পাওয়ার কারণ দেখিয়ে মোট পাঁচবার হাজিরা এড়িয়েছিলেন রথীন ঘোষ। সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই তৎপরতা প্রমাণ করে যে পুর নিয়োগ দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছাতে মরিয়া তদন্তকারীরা। এই হেভিওয়েট নেতাদের জেরা ও গ্রেফতারি রাজ্যের শাসক দলের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।