“এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হতেই পারে না!” শুভেন্দুকে প্রশংসায় ভরালেন ‘মহাগুরু’ মিঠুন

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি দলীয় সংযোগ বজায় রেখে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে একবারে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। সমস্ত ব্যস্ত কর্মসূচির আগে মুখ্যমন্ত্রী সোজা পৌঁছে যান টলিউডের মেগাস্টার তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নিউটাউনের বাসভবনে। সেখানে দুই নেতার মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ একান্ত সাক্ষাৎ হয়, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিনেতার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, জনগণের ভোট এবং দলের সিদ্ধান্তে তিনি আজ মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছেন ঠিকই, তবে তাঁর এই দীর্ঘ ও কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের নেপথ্যে মিঠুন চক্রবর্তীর অবদান অনস্বীকার্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিগত এক বছর ধরে মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যের দিকে দিকে ঘুরে নীচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন এবং নির্বাচনের শেষ কয়েক মাসে তাঁর প্রচার সভা দলের জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, তাঁর এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর হলেন স্বয়ং ‘মহাগুরু’।
স্নেহের আলিঙ্গন ও আগামীর বার্তা
মুখ্যমন্ত্রীর মুখে নিজের এমন অকুণ্ঠ প্রশংসা শুনে স্বভাবতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শুভেন্দু অধিকারীকে স্নেহের আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন। এরপর শুভেন্দুর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে অভিনেতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে ভাল মুখ্যমন্ত্রী আর হবে না। শপথ নেওয়ার পর মুহূর্ত থেকে ইনি কাজ শুরু করেছেন।” আগামী দিনে রাজ্যের মানুষ আরও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পাবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাতের রাজনৈতিক প্রভাব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। একদিকে যেমন সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দলের তারকা প্রচারকদের সুসম্পর্ক ও সমন্বয় প্রকাশ পেল, অন্যদিকে প্রশাসনের কাজে নামার আগে দলের অন্দরে কর্মীদের মনোবল আরও চাঙ্গা হলো। মিঠুন চক্রবর্তীর এই সার্টিফিকেট আগামী দিনে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সাক্ষাতের পরপরই মুখ্যমন্ত্রী ডায়মন্ড হারবার ও সুন্দরবন এলাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে রওনা হন।