“অগ্নিবীররা সাধারণ সৈনিক নন, মৃত্যুর পর পেনশন পাবেন না পরিবার!” হাইকোর্টে সাফ জানাল কেন্দ্র

নিয়মিত সৈনিক ও অগ্নিবীরদের অবস্থান এক নয়। তাই দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিলেও নিয়মিত সৈনিকদের মতো সমান পেনশন বা অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার দাবি করতে পারেন না কোনো অগ্নিবীর। জম্মু-কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন নিহত অগ্নিবীর মুরলী নাইকের মায়ের দায়ের করা মামলার জবাবে বম্বে হাইকোর্টে হলফনামা দিয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র সরকার। এর আগে জবাব দিতে দেরি করায় আদালত সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করার পর ৬ মে, ২০worst৬ তারিখে এই হলফনামা পেশ করা হয়।
সাংবিধানিক বৈধতা ও বৈষম্যের যুক্তি
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পেশ করা হলফনামায় বলা হয়েছে, নিয়মিত সৈনিক এবং অগ্নিবীরদের এই বিভাজন সম্পূর্ণ সাংবিধানিক এবং বৈধ। বর্তমান জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই চার বছরের এই স্বল্পমেয়াদি ‘অগ্নিপথ প্রকল্প’ চালু করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, নিয়মিত সেনাদের পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা তাদের দীর্ঘ কর্মজীবনের সাথে সম্পর্কিত। যেহেতু অগ্নিবীরদের চাকরির মেয়াদ সীমিত, তাই এই দুই ভিন্ন শ্রেণির মধ্যে সমতা বজায় রাখা সম্ভব নয় এবং এটি সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদ (সাম্যের অধিকার) লঙ্ঘন করে না।
আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
আদালতকে কেন্দ্র জানিয়েছে, নিহত অগ্নিবীর মুরলী নাইকের পরিবারকে অগ্নিপথ প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী বিমা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ প্রায় ২.৩ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সামরিক রীতি মেনে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এবং রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসারের পক্ষ থেকে শোকবার্তাও পাঠানো হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক পেনশন বা প্রাতিষ্ঠানিক অন্যান্য সুবিধা থেকে এই পরিবার বঞ্চিতই থাকছে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৮ জুন, ২০২৬ তারিখে নির্ধারিত হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের এই হলফনামার পর এখন দেশজুড়ে অগ্নিপথ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এবং অগ্নিবীরদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্কের মুখে পড়তে চলেছে। বিশেষ করে সম্মুখ সমরে জীবন উৎসর্গ করার পরেও নিয়মিত ও স্বল্পমেয়াদি সেনাদের ভাতার এই পার্থক্য আগামী দিনে সামরিক বাহিনীতে যোগদানে ইচ্ছুক যুবসমাজের মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।