NEET ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড রসায়নের প্রাক্তন অধ্যাপক পিভি কুলকার্নি গ্রেফতার, নেপথ্যে বড় চক্রের আভাস

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘NEET ২০২৬’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত পিভি কুলকার্নিকে পুনে থেকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুরের পর আজই তাকে সিবিআই (CBI) আদালতে পেশ করা হচ্ছে। গত ২৮ বছর ধরে শিক্ষাকতার সঙ্গে যুক্ত এই প্রবীণ অধ্যাপকের গ্রেফতারির পর দেশজুড়ে শিক্ষা মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। একজন সম্মানিত শিক্ষক কীভাবে এই চক্রের মূল হোতা হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শিক্ষকতার আড়ালে প্রশ্ন ফাঁসের নকশা
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পিভি কুলকার্নি লাতুরের দয়ানন্দ কলেজে টানা ২৮ বছর রসায়নের অধ্যাপক এবং পরবর্তীতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চার বছর আগে অধ্যক্ষ পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি বিভিন্ন নামী কোচিং সেন্টারে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে রসায়ন পড়াতেন। একই সাথে তিনি শিক্ষা সংক্রান্ত একটি বেসরকারি সংস্থার সাথেও যুক্ত ছিলেন। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, গত দুই বছর ধরে তিনি ‘ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি’ বা এনটিএ (NTA)-র সাথে চুক্তির ভিত্তিতে রসায়ন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছিলেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার রসায়নের প্রশ্নপত্র তৈরির প্যানেলে থাকার সুবাদেই তিনি প্রশ্নপত্রের গোপন নথিতে প্রবেশাধিকার পেয়ে যান।
শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলার পুনে কানেকশন
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই চক্রের অন্যতম সহযোগী মণীষা নামের পুনের এক বাসিন্দা শিক্ষার্থীদের প্রলোভন দেখিয়ে কুলকার্নির কাছে নিয়ে আসত। পরীক্ষার ঠিক আগে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কুলকার্নি পুনেতে একটি অনলাইন বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি পরীক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট ‘মক কোশ্চেন’ বা সম্ভাব্য প্রশ্ন সমাধান করান। পরবর্তীতে দেখা যায়, হুবহু সেই প্রশ্নগুলোই নিট পরীক্ষায় এসেছে। এই ঘটনার পর কুলকার্নির লাতুরের বিলাসবহুল বাংলো এবং পারিবারিক সম্পত্তির খোঁজ নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, কুলকার্নি এর আগেও নানা অনৈতিক কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন, তবে আইনি জটিলতার ভয়ে এখন কেউই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না। দেশের অন্যতম শীর্ষ এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস আগামী দিনে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।