মুম্বইয়ে নীল ড্রামের পর এবার ‘সবুজ ড্রাম’ হত্যাকাণ্ড, প্রেমিকের নৃশংস খুনে গ্রেপ্তার নার্স ও তার ভাই

মুম্বইয়ে নীল ড্রামের পর এবার ‘সবুজ ড্রাম’ হত্যাকাণ্ড, প্রেমিকের নৃশংস খুনে গ্রেপ্তার নার্স ও তার ভাই

মুম্বই সংলগ্ন মুমব্রা এলাকায় মেরঠের ‘ব্লউ ড্রাম মার্ডার’-এর মতো এক হাড়হিম করা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর এক ২৪ বছর বয়সী সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের পচনশীল মরদেহ একটি সবুজ রঙের ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, বকেয়া টাকা আদায় ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের ব্যর্থ চেষ্টার জেরে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে যুবকের প্রেমিকা, তার স্বামী এবং ভাই মিলে। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী এক পেশাদার নার্স ও তার ভাইকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কল ডিটেইলসে ফাঁস নার্সের নিষ্ঠুরতা

নিহত যুবকের নাম আরবাজ খান (২৪)। তিনি ডোম্বিভলির একটি বেসরকারি সংস্থায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ এপ্রিল কাজের পারিশ্রমিক নেওয়ার জন্য দাদরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। যুবকের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ আরবাজের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মহজবীন শেখ নামে এক নার্সের সন্ধান পায়, যার সাথে আরবাজের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার সময় আরবাজ এবং মহজবীন দুজনেরই শেষ লোকেশন ছিল ভাসাই এলাকা। এরপরই গত ৫ এপ্রিল পালঘর জেলার মুম্বই-আহমেদাবাদ হাইওয়ের বিড়ার ফাটার কাছে একটি নালা থেকে ড্রামবন্দী ও পচনশীল অবস্থায় আরবাজের লাশ উদ্ধার হয়।

টাকা আদায়ের ছক ও অপরাধের প্রভাব

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মহজবীন আরবাজকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন এবং সেই টাকা ফেরত চাচ্ছিলেন। টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যেই মহজবীন, তার স্বামী হাসান, ভাই তারিক শেখ এবং সহযোগী মুজজ্জম তালিব খান মিলে আরবাজকে ভাসাইয়ের একটি নির্জন জায়গায় ডেকে পাঠায়। সেখানে আরবাজের হাত-পা বেঁধে পিভিসি পাইপ দিয়ে পিটিয়ে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়। অপরাধ ঢাকতে লাশটি একটি সবুজ ড্রামে ভরে নালায় ফেলে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার জেরে স্থানীয় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই মহজবীন ও তার ভাই তারিককে গ্রেপ্তার করেছে এবং পলাতক স্বামী ও অপর সহযোগীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে এভাবে ঠাণ্ডা মাথায় খুন ও ড্রামে ভরে লাশ গুম করার ঘটনাটি অপরাধীদের চরম নৃশংসতা এবং আইন অমান্যের এক ভয়াবহ রূপকে প্রকাশ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *