এল নিনোর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে এবার সময়ের আগেই দেশে নামছে বর্ষা

এল নিনোর চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে এবার সময়ের আগেই দেশে নামছে বর্ষা

প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে এল নিনোর ভ্রুকুটি এবং তীব্র দাবদাহের মাঝেই স্বস্তির বার্তা দিল কেন্দ্রীয় মৌসম ভবন (আইএমডি)। সমস্ত আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে চলতি মরসুমে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ আগেই ভারতের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। শনিবার আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৬ মে কেরল উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষার আগমন ঘটে, তবে এবার সেই চেনা ছক ভেঙে বেশ কিছুটা আগেই বৃষ্টির দেখা মিলবে।

ইতোমধ্যেই আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ও তার সংলগ্ন এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। ১৬ মে-র মধ্যেই সেখানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করার কথা। বঙ্গোপসাগরের এই আগাম তৎপরতাই কেরলে দ্রুত বর্ষা ডেকে আনার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।

এল নিনোর প্রভাব ও প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা

চলতি বছরের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-র সাম্প্রতিক ‘গ্লোবাল সিজ়নাল ক্লাইমেট আপডেট’ রিপোর্টেও এর স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের জলস্তরের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বর্ষার আগমনকে পিছিয়ে দেয় এবং বৃষ্টিপাতের ঘাটতি তৈরি করে। প্রশান্ত মহাসাগরের এই উষ্ণ সামুদ্রিক স্রোত বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে নিম্নচাপ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করায় স্বাভাবিক বর্ষার গতি শ্লথ হয়ে যায়। কিন্তু সমস্ত চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে এবার এল নিনোর সক্রিয়তার মাঝেই আগাম বর্ষার পূর্বাভাস মিলল।

কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ভারতের মতো কৃষিপ্রধান দেশে সময়মতো এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের সিংহভাগ চাষাবাদ এখনও বর্ষার জলের ওপর নির্ভরশীল। ডব্লিউএমও-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন মাসে বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার কথা। এমন পরিস্থিতিতে সময়ের আগে বর্ষার আগমন তীব্র গরম থেকে সাধারণ মানুষকে যেমন স্বস্তি দেবে, তেমনই খরা পরিস্থিতির আশঙ্কায় থাকা কৃষকদের মুখেও হাসি ফোটাবে। তবে এল নিনোর প্রভাবে পরবর্তী সময়ে বৃষ্টিপাতের ধরনে কোনো খামখেয়ালিপনা তৈরি হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *