উস্কানিমূলক মন্তব্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকির জেরে এফআইআরের জালে অভিষেক, সুর চড়ালেন দিলীপ ঘোষ!

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। এবার সরাসরি পুলিশের এফআইআরের (FIR) মুখে পড়লেন তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতা। নির্বাচনী প্রচার মঞ্চ থেকে বিতর্কিত মন্তব্য ও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি সংকট নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
নেপথ্যে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ৫ তারিখ, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ঠিক পরের দিন। রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মী বাগুইআটি থানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, ভোটের সময় বিভিন্ন নির্বাচনী জনসভা ও প্রচারের মঞ্চ থেকে একের পর এক বিতর্কিত ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। এমনকি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তিনি সরাসরি হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগকারী দাবি করেছেন। অভিযোগের সপক্ষে অভিষেকের বেশ কিছু বিতর্কিত বক্তৃতার ভিডিও ফুটেজ এবং ডিজিটাল লিঙ্ক পুলিশের হাতে প্রমাণ হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। তার ভিত্তিতেই বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কড়া ধারায় মামলা ও রাজনৈতিক উত্তাপ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ধারা জামিন অযোগ্য। ফলে আগামী দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি জটিলতা ও অস্বস্তি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের অন্যান্য নেতারা প্রচুর অত্যাচার-অনাচার করেছেন। ভয়ের কারণে আগে মানুষ অভিযোগ করতে পারেননি এবং পুলিশও পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে, মানুষ ভয় সরিয়ে এগিয়ে আসছেন এবং পুলিশও প্রস্তুত। সবাইকে ন্যায় দেওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দোষ করলে শাস্তি পেতেই হবে। এই আইনি জলঘোলা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।