সন্তান মানুষ করার চেয়ে কুকুর পোষা অনেক ভালো, দাম্পত্য ও মাতৃত্ব নিয়ে বিস্ফোরক শেফালি শাহ!

বলিউডের অন্যতম স্পষ্টভাষী ও প্রতিভাবান অভিনেত্রী শেফালি শাহ। অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি সমসাময়িক জীবনধারা এবং সমাজ নিয়ে নিজের নির্ভীক মতামত প্রকাশের জন্য তিনি বরাবরই চর্চায় থাকেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে, সম্পর্কের সমীকরণ এবং অভিভাবকত্ব নিয়ে এক ছকভাঙা মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ‘দিল্লি ক্রাইম’ খ্যাত এই অভিনেত্রী। চেনা সমাজ যেভাবে তরুণ প্রজন্মের ওপর বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার জন্য অবিরত চাপ সৃষ্টি করে, তা নিয়ে সরব হওয়ার পাশাপাশি এক অভিনব পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা— সন্তান মানুষ করার চেয়ে কুকুর পোষা অনেক ভালো।
সম্পর্কের পরিপক্কতা ও বিয়ের চাপ
জনপ্রিয় সঞ্চালক লিলি সিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে আলোচনা করার সময় আজকের তরুণীদের তাড়াহুড়ো করে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে নিষেধ করেছেন শেফালি। জীবনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সঠিক মানুষটাকে চেনা এবং মানসিক পরিপক্কতা আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সমাজে ৩৭ বছর বয়সেও অনেক নারী অবিবাহিত থাকলে যেভাবে বাঁকা নজরে দেখা হয়, সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি সন্তান নেওয়ার চেয়ে কুকুর পোষাকে শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন। অভিনেত্রীর যুক্তি, মানুষের জীবনে একমাত্র কুকুরই এমন এক প্রাণী, যারা কোনওরকম শর্ত বা চাহিদা ছাড়াই আজীবন নিঃশর্ত ভালোবাসা বিলিয়ে যেতে পারে।
টেলিভিশনের অবক্ষয় ও ব্যক্তিগত জীবন
একই সাক্ষাৎকারে আজকের বিনোদন দুনিয়ার হালহকিকত নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। নব্বইয়ের দশকের টেলিভিশনের সোনালি দিনগুলোর সঙ্গে আজকের ‘ডেইলি সোপ’-এর তুলনা টেনে তিনি চিত্রনাট্যের অবক্ষয় এবং টিআরপির পেছনে দৌড়ানোর সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন। ব্যক্তিগত জীবনে শেফালি শাহ সম্পর্ক ও মাতৃত্বের চড়াই-উতরাই দুটোই দেখেছেন। অভিনেতা হর্ষ ছায়ার সঙ্গে প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ২০০০ সালে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতা বিপুল অমৃতলাল শাহকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে দুই পুত্রসন্তান থাকার পাশাপাশি ‘অ্যাশ’ এবং ‘সিম্বা’ নামের দুটি পোষ্য রয়েছে, যাদের তিনি নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন।
শেফালির এই মন্তব্য মূলত আধুনিক সমাজে নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া মাতৃত্ব ও বৈবাহিক বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে এক ধরণের সামাজিক বার্তা। তাঁর এই স্পষ্ট বক্তব্য একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনভাবে জীবন সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করবে, অন্যদিকে প্রথাগত সামাজিক মানসিকতায় কিছুটা ধাক্কা দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।