পাকিস্তানের অনুরোধেই কি এড়ালো সংঘাত, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!

পাকিস্তানের অনুরোধেই কি এড়ালো সংঘাত, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি!

তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ চীন সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মাঝ-আকাশে এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে তাঁর নিজের মোটেও সায় ছিল না। শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিশেষ অনুরোধ ও মধ্যস্থতার কারণেই ওয়াশিংটন এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

নেপথ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও ট্রাম্পের অনিচ্ছা

দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনা হচ্ছে না। এই অচলাবস্থা নিরসনে পর্দার আড়ালে মূল মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, অন্য একটি দেশের অনুরোধে তাঁরা এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন, যার পক্ষে তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন না। তবে পাকিস্তানের জনগণ, সেখানকার প্রধানমন্ত্রী এবং ফিল্ড মার্শালের বিশেষ অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়েই হোয়াইট হাউস তেহরানের সঙ্গে এই সমঝোতায় সম্মত হয়। যদিও এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

মুখে শান্তি হলেও ভেতরে যুদ্ধের প্রস্তুতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য বিবৃতির পরেও আমেরিকার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন মুখে এখনই ইরানে হামলা না করার কথা বললেও, ভেতরে ভেতরে সামরিক অভিযানের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি রাখছে। মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। ট্রাম্পের সামান্য ইশারা পেলেই যেকোনো মুহূর্তে কূটনৈতিক পথ ছেড়ে সামরিক শক্তির জোরে এই অচলাবস্থা ভাঙতে প্রস্তুত রয়েছে মার্কিন ফৌজ।

চীন সফরে ইরান প্রসঙ্গ এবং দূরগামী প্রভাব

এই নাটকীয় মোড় নেওয়ার ঠিক আগেই বেইজিংয়ে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই বৈঠকে জিনপিংকে ‘অসাধারণ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকা যে অত্যন্ত বিপজ্জনক, সেই বিষয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটন একমত হয়েছে। চীনের মতো পরাশক্তিকে এই বিষয়ে পাশে পাওয়া আমেরিকার জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপ ও আক্রমণাত্মক মনোভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও, যেকোনো মুহূর্তে সেখানে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *