NEET কেলেঙ্কারি: ১ পরিবার থেকে ৫ জন ডাক্তার! রাতারাতি সাফল্য এখন সিবিআই-এর স্ক্যানারে

NEET কেলেঙ্কারি: ১ পরিবার থেকে ৫ জন ডাক্তার! রাতারাতি সাফল্য এখন সিবিআই-এর স্ক্যানারে

সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির তদন্ত যতই এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার তদন্তকারীদের নজরে রাজস্থানের জামওয়া রামগড়ের বিওয়াল পরিবার। সিবিআই ইতিমধ্যেই এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দীনেশ বিওয়াল, তাঁর ভাই মাঙ্গিলাল বিওয়াল এবং মাঙ্গিলালের ছেলে বিকাশ বিওয়ালকে গ্রেফতার করেছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ধারণা, শুধু এই বছরই নয়, বরং গত বছরও বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনে জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের পরিবারের ছেলেমেয়েদের দেশের প্রথম সারির সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি করেছিল এই পরিবার।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, কোনো পারিবারিক ঐতিহ্য বা অসাধারণ মেধা ছাড়াই একটি সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ডের পরিবারের ৫টি সন্তানের একসঙ্গে নিট পরীক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য পাওয়াই প্রথম সন্দেহের দানা বাঁধে। ২০২৩ সালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দীনেশ ও মাঙ্গিলালের পরিবারের ৫ জন সদস্য বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে সুযোগ পায়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো উৎসব পালন করা হয়েছিল। এমনকি রাজস্থানের সিকারের বেশ কিছু নামী কোচিং সেন্টারও নিজেদের বিজ্ঞাপনে এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেছিল। তবে আসল সত্যি সামনে আসতেই এখন সেই মেধার মুখোশ খুলে পড়েছে।

মেডিকেল কলেজ থেকে উধাও ভুয়া পড়ুয়ারা

গ্রেফতার হওয়া বিকাশ বিওয়াল সওয়াই মাধোপুর মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র, যে দ্বাদশ শ্রেণীতে মাত্র ৫৫ শতাংশ নম্বর পেয়েও নিট পরীক্ষায় জাদুকরী ছোঁয়াতে ৮৬ পার্সেন্টাইল পেয়েছিল। মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন, বিকাশ জানুয়ারি থেকে ক্লাসে আসত না এবং কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় সে বড়জোড় ৩০ শতাংশ নম্বর পেত। বিকাশ গ্রেফতার হতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পড়তে যাওয়া তার বাকি ৪ তুতো বোনও হঠাৎ করে নিজেদের মেডিকেল কলেজ ও হোস্টেল থেকে উধাও হয়ে গেছে। এদের মধ্যে জয়পুরের এসএমএস মেডিকেল কলেজের পলক, দৌসার প্রগতি, মুম্বাইয়ের সানিয়া এবং বারাণসীর সরকারি মেডিকেল কলেজের গুঞ্জন রয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণী বা কোচিংয়ের মক টেস্টে অত্যন্ত সাধারণ নম্বর পাওয়া এই ছাত্রীরা নিট পরীক্ষায় রাতারাতি ৯০ থেকে ৯৮ পার্সেন্টাইল নম্বর পেয়ে বসেছিল।

চলতি বছরেও ছিল ডাক্তার বানানোর ছক

গত বছরের এই ‘অপ্রত্যাশিত’ সাফল্যের পর বিওয়াল পরিবার চলতি বছরেও পরিবারের আরও দুই সন্তান ঋষি ও আমনকে যেকোনো মূল্যে মেডিকেল কলেজে পাঠানোর নীল নকশা তৈরি করেছিল। দ্বাদশ শ্রেণীতে মাত্র ৫০ শতাংশ এবং দশম শ্রেণীতে গ্রেস মার্কস পেয়ে পাস করা ঋষির জন্য এবারও প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে লাখ লাখ টাকার চুক্তি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সিবিআই বর্তমানে সিকারের কোচিং সেন্টারগুলোর বিজ্ঞাপন এবং এই প্রশ্ন ফাঁস সিন্ডিকেটের পুরনো নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। এই জালিয়াতির ফলে একদিকে যেমন যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীরা সরকারি মেডিকেল কলেজের আসন থেকে বঞ্চিত হয়েছে, অন্যদিকে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎও এক বড়সড় হুমকির মুখে পড়েছে।

এক ঝলকে

  • রাজস্থানের বিওয়াল পরিবারের ৩ সদস্যকে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
  • অত্যন্ত সাধারণ মেধার হওয়া সত্ত্বেও গত বছর এই এক পরিবারের ৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিট পাস করে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়।
  • মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারির পর থেকেই বিভিন্ন রাজ্যে পড়তে যাওয়া ওই পরিবারের ৪ জন ছাত্রী মেডিকেল কলেজ ও হোস্টেল থেকে পলাতক।
  • বিগত বছরের সাফল্যের পর চলতি বছরেও পরিবারের আরও দুই অস্বচ্ছল মেধাবী সন্তানকে ডাক্তার বানাতে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সাথে মোটা অঙ্কের চুক্তি করা হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *