রীলের নেশায় অন্ধ মা! গলায় দড়ি লেগে ছটফট করছে সন্তান, ভিডিও করায় ব্যস্ত!

রীলের নেশায় অন্ধ মা! গলায় দড়ি লেগে ছটফট করছে সন্তান, ভিডিও করায় ব্যস্ত!

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয় বা ‘ভাইরাল’ হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা মানুষকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তার এক শিউরে ওঠা নিদর্শন সামনে এসেছে। সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, খেলনা দড়ির ফাঁসে আটকে এক শিশু যন্ত্রণায় ছটফট করছে এবং মায়ের কাছে বাঁচানোর আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু কোলের সন্তানের সেই মরণপণ চিৎকার উপেক্ষা করে সাহায্য করার বদলে নিজের মুঠোফোনে রিল ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন জন্মদাত্রী মা। মায়ের এমন চরম অমানবিকতা ও নির্মম উদাসীনতা দেখে হতবাক বিশ্ববাসী, যা তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

সামাজিক ব্যাধি ও মানসিক বিকৃতি

বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই ঘটনা কেবল চরম অবহেলাই নয়, বরং এটি এক ধরণের গভীর মানসিক বিকৃতির বহিঃপ্রকাশ। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল—সর্বত্রই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অতিরিক্ত মোহ এক ধরণের সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। সস্তা জনপ্রিয়তা এবং অনুসারী (ফলোয়ার্স) বাড়ানোর নেশায় মানুষ নিজের ও সন্তানের জীবনের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে দ্বিধাবোধ করছে না। ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওটিতে স্পষ্ট দেখা যায়, সামান্য এদিক-ওদিক হলেই শিশুটির শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি

গত ১৫ মে ২০২৬ তারিখে ভিডিওটি ইন্টারনেটে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ এটি দেখেছেন। ঘটনার স্থান ও সময় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো দাপ্তরিক তথ্য পাওয়া না গেলেও, নেটিজেনরা এই নিষ্ঠুর আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। অপরাধী মায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি উঠছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, এই ধরণের ঘটনা সমাজে নেতিবাচক বার্তা দেয়, তাই একে কঠোর হস্তে দমন করা উচিত।

এক ঝলকে

  • খেলার ছলে এক শিশুর গলায় দড়ির ফাঁস আটকে গেলেও মা তাকে উদ্ধার না করে ভিডিও করতে থাকেন।
  • শিশুটি অনবরত মায়ের কাছে প্রাণভিক্ষা চাইলেও রিল বানানোর নেশায় মা ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন।
  • সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক বিকৃতিকেই এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
  • ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *