শুধু পুরুষদেরই কেন টাক পড়ে, মহিলাদের কেন নয়? আসল কারণ জানলে চমকে উঠবেন!

সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে মাথায় চুল কমে যাওয়া বা টেকো মাথার সমস্যা দেখা যাওয়া অত্যন্ত বিরল। তাদের চুল ঝরলেও তা আবার গজিয়ে ওঠে। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে চুল পড়ার এই সমস্যা খুবই সাধারণ ঘটনা। অনেক পুরুষেরই মাথার সামনের অংশের চুল পুরোপুরি উধাও হয়ে যায়, আবার অনেকের মাথার মাঝখান বা পেছনের অংশের চুলও ঝরতে শুরু করে। একবার চুল পড়ে গেলে সেখানে নতুন করে চুল গজানো পুরুষদের ক্ষেত্রে বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেখানে নারীদের চুল ঘন ও কালো থাকে, সেখানে পুরুষদের মাথার চুল কমতে থাকে। এর পেছনে রয়েছে একটি বড় বৈজ্ঞানিক কারণ এবং হরমোনের খেলা।
হরমোনের ভূমিকা ও মূল কারণ
বিভিন্ন গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ধরনের চুল পড়ার সমস্যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া’ বলা হয়। নারী-পুরুষ উভয়েরই চুল পাতলা হতে পারে, তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনেক বেশি দৃশ্যমান। এর মূল কারণ হলো ‘ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন’ (DHT) নামক একটি হরমোন। এই হরমোনটি চুলের গোড়ায় গিয়ে সেগুলোকে সংকুচিত করে দেয়, যার ফলে চুল ধীরে ধীরে ছোট ও পাতলা হতে শুরু করে। একপর্যায়ে চুলের গোড়া বা ফলিকলগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়। পুরুষদের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই এই ডিএইচটি (DHT) হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে, যা তাদের দ্রুত টেকো মাথার দিকে ঠেলে দেয়।
নারীদের কেন এই সমস্যা কম হয়
নারীদের শরীরে ডিএইচটি হরমোনের প্রভাব পুরুষদের মতো এতটা তীব্র হয় না। নারীদের শরীরে মূলত মেনোপজ বা ঋতুনিবৃত্তির পর ‘ইস্ট্রোজেন’ হরমোনের মাত্রা কমতে শুরু করলে চুল কিছুটা পাতলা হতে পারে। এ ছাড়া পুষ্টির অভাব, মানসিক চাপ বা হরমোনের ভারসাম্যের অভাবও চুল পড়ার কারণ হতে পারে, তবে তা পুরোপুরি চুলশূন্যতা তৈরি করে না। পাশাপাশি, হ্যার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এর পেছনে জিনগত কারণও রয়েছে। পুরুষদের শরীরে একটিমাত্র ‘X’ ক্রোমোজোম (XY) থাকায় মায়ের কাছ থেকে আসা চুল পড়ার জিনটি সরাসরি প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে নারীদের দুটি ‘X’ ক্রোমোজোম (XX) থাকায় এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ধীরগতিতে কাজ করে।
আমেরিকান হেয়ার লস অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ৬৬ শতাংশ পুরুষ ৩৫ বছর বয়সের মধ্যেই চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন এবং ৫০ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পুরুষই ব্যাপকভাবে চুল হারান। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে মাত্র ৪০ শতাংশ তাদের জীবদ্দশায় চুল পাতলা হওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। পুরুষদের ত্বক নারীদের তুলনায় কিছুটা শক্ত ও তৈলাক্ত হওয়ার কারণেও তাদের চুল পড়ার হার বেশি থাকে।
এক ঝলকে
- পুরুষদের চুল পড়ার প্রধান কারণ হলো ‘ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন’ (DHT) হরমোন, যা নারীদের তুলনায় পুরুষদের শরীরে বেশি থাকে।
- বংশগত বা জিনগত কারণে মায়ের ‘X’ ক্রোমোজোম থেকে এই সমস্যা পুরুষদের শরীরে স্থানান্তরিত হয়।
- পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৫০ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ পুরুষই চুল হারানোর তীব্র সমস্যায় পড়েন।
- নারীদের লম্বা চুল পাতলা অংশ ঢেকে রাখে এবং তাদের দুটি ‘X’ ক্রোমোজোম থাকায় তারা এই সমস্যা থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকেন।