মাঝরাতে ধুন্ধুমার হাওড়া স্টেশনে! বুলডোজারের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেল ১৫০ ‘অবৈধ’ দোকান

হাওড়া স্টেশনের বাইরে গজিয়ে ওঠা বেআইনি হকারদের দৌরাত্ম্য রুখতে শনিবার গভীর রাতে এক বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ। বিরাট পুলিশ বাহিনী, আরপিএফ এবং রেল পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ফুটপাথের প্রায় ১৫০টিরও বেশি ‘অবৈধ’ দোকান। প্রতি দিন লক্ষ লক্ষ মানুষের যাতায়াতে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই ঘিঞ্জি দোকানপাট। দীর্ঘ দিন ধরে জমে থাকা যাত্রী-ক্ষোভের কারণেই শেষ পর্যন্ত এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি রেলের।
উচ্ছেদের কারণ ও হকারদের ক্ষোভ
কলকাতার এই প্রধান প্রবেশদ্বারে ট্রেন ধরার তাগিদে প্রতিনিয়ত যাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা চলায় স্টেশন চত্বর সর্বক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে থাকত। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে শনিবারই ব্যবসায়ীদের জায়গা খালি করার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তবে হকারদের অভিযোগ, নোটিস পাওয়ার পর সরানোর জন্য তাঁদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। গভীর রাতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই পুলিশ ও আরপিএফ আধিকারিকদের সঙ্গে হকারদের তুমুল বচসা বাধে, যা সামাল দিতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
যাত্রী স্বস্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে হাওড়া স্টেশন চত্বর অনেক বেশি প্রশস্ত ও যানজটমুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার হকার সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছুদিনের মধ্যে পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে যেত। তবে এবারের এই মেগা অভিযানের পর ব্যস্ত সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেকটাই মসৃণ হবে। যাত্রীদের একটি বড় অংশ রেলের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, পুনর্বাসন ছাড়া এত হকার উচ্ছেদের ফলে আগামী দিনে স্টেশন চত্বরে নতুন করে ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
এক ঝলকে
- হাওড়া স্টেশনের বাইরে শনিবার গভীর রাতে বুলডোজার চালিয়ে ১৫০টিরও বেশি অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- আরপিএফ, রেল পুলিশ ও বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
- স্টেশন চত্বর ঘিঞ্জিমুক্ত করতে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
- হকারদের দাবি, রেল নোটিস দিলেও দোকান সরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।