অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এফআইআর, কাঠগড়ায় পুলিশ কর্তাও

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এফআইআর, কাঠগড়ায় পুলিশ কর্তাও

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আইনি চাপ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। এবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হলো দ্বিতীয় এফআইআর (FIR)। দলীয় শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাপিয়ে এবার খোদ দলেরই হেভিওয়েট নেতা তথা মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক এবং প্রাক্তন সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এক পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

একদা দলের অন্দরে দাপিয়ে বেড়ানো মন্ত্রী ও বিধায়কের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনীতিতে এক বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিল।

থানার অন্দরে তৃণমূল কর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রাক্তন মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লার অভিযোগের তির মূলত ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক মিতুন কুমার দে এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। গিয়াসউদ্দিনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। থানায় দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন:

  • থানায় বর্বরতা: পুলিশ কর্তা মিতুন কুমার দে ক্ষমতার অপব্যবহার করে থানার লক-আপের অন্দরে এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মীকে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছেন।
  • অভিষেকের নিষ্ক্রিয়তা: ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা দলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই চরম নির্যাতন ও পুলিশের জুলুমের কথা সপ্রমাণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সব কিছু জেনেও অভিষেক কোনো সুরাহা করেননি, উল্টে অভিযুক্ত পুলিশ কর্তাকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে সরব প্রাক্তন মন্ত্রী

অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি এই ঘটনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে সরব হয়েছেন গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। ফেসবুকের সেই ভিডিওতে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রাক্তন সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, দলের কিছু নেতার মদতে পুলিশ যেভাবে একনায়কতন্ত্র চালিয়েছে এবং কর্মীদের ওপর অত্যাচার করেছে, তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। নিজের কর্মীদের নিরাপত্তা ও সম্মানের স্বার্থেই তিনি এই আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন।

তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি

মে মাসে রাজ্যে সরকার হাতছাড়া হওয়ার পর যখন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বৈঠক থেকে দলের অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, ঠিক তার পরেই অভিষেকের বিরুদ্ধে দলেরই প্রাক্তন মন্ত্রীর এই এফআইআর তৃণমূলের অন্দরমহলকে কার্যত কাঁপিয়ে দিয়েছে। ডায়মন্ড হারবার মডেল এবং দলের অভ্যন্তরীণ অনুশাসন নিয়ে বিরোধী দল বিজেপি যখন লাগাতার আক্রমণ শানাচ্ছে, তখন ঘরের লোকের এই আইনি হানা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম রাজনৈতিক ও আইনি অস্বস্তিতে ফেলে দিল। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এই মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *