কেরলে ১০ বছর পর ফিরল ইউডিএফ জমানা, আজ মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন ভি ডি সথীসান, চাঁদের হাট তিরুবনন্তপুরমে

কেরল রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ঘটিয়ে আজ, সোমবার এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কেরলের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন কংগ্রেসের প্রবীণ তথা দক্ষ নেতা ভি ডি সথীসান (V. D. Satheesan)। সদ্য সমাপ্ত ১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থী এলডিএফ (LDF)-এর টানা ১০ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১০২টি আসনে বিপুল জয় ছিনিয়ে নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট বা ইউডিএফ (UDF)।
ইউডিএফ-এর এই ল্যান্ডস্লাইড বিজয়ের পর আজ সথীসানের সাথে তাঁর মন্ত্রিসভার আরও ২০ জন সদস্য পদ ও গোপনীয়তার শপথ নেবেন। নতুন সরকারের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তিরুবনন্তপুরমে কংগ্রেস তথা বিরোধী শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের এক চাঁদের হাট বসতে চলেছে।
নতুন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ ও জোটসঙ্গীদের ভারসাম্য
মুখ্যমন্ত্রী পদে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ভি ডি সথীসান তাঁর নতুন ক্যাবিনেটের তালিকা চূড়ান্ত করে রাজ্যপালের কাছে জমা দিয়েছেন। এই মন্ত্রিসভার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি হলো:
- নতুন মুখের প্রাধান্য: মন্ত্রিসভাকে তরুণ ও গতিশীল রাখতে ১৪ জন সম্পূর্ণ নতুন মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন পি.সি. বিষ্ণুনাথ, রোজি এম. জন, বিন্দু কৃষ্ণ, টি. সিদ্দিকী, কে.এ. তুলসী এবং ও.জে. জনিশের মতো কংগ্রেসের উদীয়মান নেতৃত্ব।
- সিনিয়রদের অভিজ্ঞতা: মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা রমেশ চেনিথালাকেও মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কে মুরলীধরন এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সানি জোসেফও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার: সিনিয়র কংগ্রেস নেতা থিরুভাঞ্চুর রাধাকৃষ্ণনকে বিধানসভার স্পিকার এবং শানিমল উসমানকে ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মিত্র দল মুসলিম লীগ ও অন্যদের বড় প্রাপ্তি
ইউডিএফ জোটের অন্যতম প্রধান এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল ‘ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ’ (IUML)-কে মন্ত্রিসভায় ৫টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে মন্ত্রী হচ্ছেন পি.কে. কুনহালিকুট্টি, কে.এম. শাজি, ভি. আব্দুল গাফুর, এন. শামসুদ্দিন এবং পি.কে. বশির। এছাড়াও কেরালা কংগ্রেস (জোসেফ) থেকে মনস জোসেফ, রেভোলিউশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টি (RSP) থেকে শিবু বেবি জন, কেরালা কংগ্রেস (জ্যাকব) থেকে অনুপ জ্যাকব এবং কমিউনিস্ট মার্কসিস্ট পার্টি (CMP) থেকে সি.পি. জন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।
শপথ নেওয়ার আগেই ‘ব্যয়সংকোচন’ ও সরলতার নজির
প্রশাসনিক দায়িত্বভার নিজের কাঁধে নেওয়ার আগেই সথীসান তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা ও সরকারি চালচলনে এক বলিষ্ঠ বার্তা দিয়ে কেরলের জনগণের মন জয় করে নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ জারি করেছেন যে:
- ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে তাঁর যাতায়াতের সময় কোনো বিশাল নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহর (VIP Convoy) বা সাইরেন বাজানো অ্যাম্বুলেন্স থাকবে না।
- সরকারের বিপুল খরচ কমাতে তিনি কোনো নতুন সরকারি গাড়ি বা লাক্সারি লাটসাহেবি সুবিধা নেবেন না। তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
তিরুবনন্তপুরমে মেগা অনুষ্ঠান, হাজির থাকছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
কেরলের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনকে জাতীয় স্তরে বিরোধী জোটের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। আর সেই কারণেই আজকের এই মেগা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখু এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার-সহ একাধিক জাতীয় স্তরের হেভিওয়েট বিরোধী নেতৃত্ব। দক্ষিণের এই রাজ্যে কংগ্রেসের হাত ধরে এক ‘নতুন যুগ’ বা ‘পুথু যুগম’ শুরু হতে চলেছে বলে দাবি করেছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সথীসান।